পাকিস্তান পাশে না দাঁড়ালে কী হতো বাংলাদেশের সঙ্গে

অনলাইন ডেস্ক

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে স্বস্তির খবর পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট। নিরাপত্তা ইস্যুতে তৈরি হওয়া সংকটে পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থানই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

নিরাপত্তার শঙ্কায় বাংলাদেশ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি তাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে ডাকে। বাংলাদেশের বাদ পড়া নিয়ে আইসিসির দ্বৈত নীতির অভিযোগ তোলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি। এর প্রতিবাদে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানায় পাকিস্তান।

এরপর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে। গত রবিবার বিকেলে লাহোরে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আইসিসির প্রতিনিধিদের বৈঠকে সংকট নিরসনের পথ তৈরি হয়। নিজেদের দাবি তুলে ধরে দুই বোর্ড। আংশিকভাবে তা মেনে নেয় আইসিসি। এরপরই ভারত ম্যাচে খেলতে রাজি হয় পাকিস্তান।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় লাভবান হয় বাংলাদেশ। আইসিসির বিবৃতিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় বাংলাদেশের ওপর কোনো শাস্তি আসছে না।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি ২০২৮ থেকে ৩১ মেয়াদে আরও একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব পাচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে বিসিবি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানায় এবং ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে পাকিস্তানকে অনুরোধ করে।

আলোচনার সময় পিসিবি আইসিসির রাজস্ব বণ্টন কাঠামো নিয়েও আপত্তি তোলে বলে জানা গেছে। যদিও সরকারি বা আইসিসির বিবৃতিতে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ভারত পাকিস্তান বা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের কোনো শর্তও দেওয়া হয়নি বলে দাবি পিসিবির।

এর আগে লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, বিসিবি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজা বৈঠকে বসেন। সেখানে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় পিসিবি।

সবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। বাংলাদেশের বিষয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত, বিসিবির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পাকিস্তান সরকারের নির্দেশনার পরই ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

ফলে দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, পাকিস্তান।

এর আগে গত মাসে ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ভারতে আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। পরে আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

এই সিদ্ধান্তকে ভুল এবং দ্বৈত নীতি বলে মন্তব্য করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, তা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। যদি কোনো দেশ নিরাপত্তার কারণে অন্য দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে, তাহলে বাংলাদেশেরও সেই অধিকার থাকা উচিত।

মহসিন নাকভি আরও বলেন, গত বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারত। তখন ভারতের ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আয়োজন করা হয়।

তার ভাষায়, সে ক্ষেত্রে ভারতের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি, যা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights