পাবিপ্রবিতে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে মানববন্ধন, নতুন ভিসি নিয়োগের দাবি
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। সাবেক উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা ও বর্তমান প্রশাসনের যোগসাজশে অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ‘পরিচালক (হিসাব)’ পদে একটি গোপন নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করা হয়। এতে সংস্থাপন শাখার উপপরিচালক (অডিট) মো. আলমগীর হোসেনকে পদোন্নতি দিতে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করা হয়েছে।
তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ পদে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই একক প্রার্থী হিসেবে আলমগীর হোসেনকে উপস্থাপন করা হয়। লিখিত পরীক্ষা বা যথাযথ মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্য কোনো যোগ্য প্রার্থীকে ইন্টারভিউর সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত হিসাব পরিচালক শামসাদ ফখরুল আবেদন করলেও তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। সাবেক উপাচার্য এস এম আব্দুল আওয়াল নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে প্রো-ভিসি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও বিভিন্ন নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করে টেলিফোনে ডেকে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আঞ্চলিকতা ও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে মেধার মূল্যায়ন ব্যাহত হচ্ছে। অবিলম্বে এই নিয়োগ বোর্ড বাতিল এবং সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ভ্রম্য বলেন, কিছু দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। পরিচালক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ভিসির সিদ্ধান্তই কার্যকর হয় এবং রিজেন্ট বোর্ড অনুমোদন দিলেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রো-ভিসি নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
