পালিয়ে বিয়ের ৭ মাস পর কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পালিয়ে বিয়ের পর সাত মাসের মধ্যে খাদিজা আক্তার কাশফি (১৮) নামে গৃহবধূর রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মরদেহ রেখে পালিয়ে যান স্বামী মো. মারুফ (২১)। মৃত কাশফি উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার কাজী বাড়ির আবদুল জলিলের মেয়ে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বামী মারুফ। কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণা করার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন তিনি। কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা।

মৃতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাশফির ওপর নির্যাতন চালানো হতো। বৃহস্পতিবার তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে মারুফ ও তার পরিবার।

কাশফির মা শাহীনূর আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছোট মেয়েটা আমার খুব আদরের ছিল। বিয়ের পরও আমি নিজে গিয়ে ওদের রান্না করে দিয়ে আসতাম। মেয়েটা তার স্বামীকে ছাড়া কখনো ভাত পর্যন্ত মুখে তুলত না। সেই স্বামী তাকে এভাবে কেড়ে নিল?’

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী বলেন, ওই কিশোরীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। নিহতের গলায় একটি মোটা দাগ রয়েছে। মরদেহ রেখে তার স্বামী হাসপাতাল থেকে দ্রুত সরে পড়েন।

সূত্র আরও জানায়, সাত মাস আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে কাশফি বিয়ে করেছিলেন হাইলধর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আলী হোসেনের বাড়ির মো. মারুফকে।

আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে এক গৃহবধূর মরদেহ ফেলে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের গলায় দাগ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights