পাহাড় ধস, বন্যা ও ঘন ঘন অবরোধে স্থবির সাজেক: ভরা মৌসুমেও পর্যটকশূন্য

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর স্থানীয় গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে সৃষ্ট টানা অবরোধের মুখে কিছুতেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সাজেক ভ্যালি। কখনো পাহাড় ধস, কখনো বন্যা, আবার কখনো মানুষের তৈরি অবরোধের কারণে ভরা মৌসুমেও পর্যটক হারাচ্ছে পাহাড়ের এই রুপোলি উপত্যকা।

শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের অগ্রিম বুকিং থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে শেষ মুহূর্তে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পর্যটকেরা, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় হোটেল-মোটেল ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।

সাজেক সূত্র জানায়, এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। এর জের ধরে এলাকা থেকে জেএসএসকে অপসারণের দাবিতে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি দফায় দফায় সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। প্রথম দফায় সংক্ষিপ্ত অবরোধের পর সম্প্রতি আবারও ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হলে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-বাঘাইহাট-সাজেক সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় হাট-বাজার বন্ধ থাকায় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় তীব্র স্থবিরতা নেমে এসেছে।

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী সাজেক ভ্যালীতে পর্যটক প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে সাজেকে আগে থেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর হোটেল-মোটেলের সব বুকিং একযোগে বাতিল হতে থাকে, ফলে শারদীয় ছুটির দিনে সাজেক কার্যত পর্যটকশূন্য ভূখণ্ডে পরিণত হয়।

সাজেক পর্যটন কটেজ ও মালিক সমিতি এবং ব্যবসায়ীরা সাজেক উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বরে সম্প্রতি প্রতিবাদ সমাবেশ পালন করেছেন। তবে নতুন করে ফের অবরোধ আহ্বান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা কঠোর অবস্থানে থাকলেও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাজেক আপাতত খোলা হচ্ছে না বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

সাজেকের একাধিক হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী জানান, বছরের এই সময়টাতে সাজেকে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে। তবে বারবার অবরোধ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় এবার ব্যবসার ভরা মৌসুমে তাদের ব্যবসা পুরোপুরি ধসে পড়েছে। কর্মচারীদের বেতন প্রদান ও কটেজ রক্ষণাবেক্ষণ চালানোই এখন তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights