পুলিশকে ব্যবহার করে প্রতারণার ফাঁদ, টাকা হাতিয়ে নিতেন নকল এসপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিজেকে কখনো পুলিশ সুপার, কখনো অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে ফোন করতেন পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। নিতেন টার্গেট এলাকার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের নম্বর। তার মাধ্যমে স্থানীয় বিকাশ বা নগদ এজেন্টের সাথে কথা বলে বিশ্বাস স্থাপন করে শুরু হতো প্রতারণার জাল। ধীরে ধীরে তার সাথে কথা বলে হাতিয়ে নিত মোটা অঙ্কের টাকা। এভাবে দেশজুড়ে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়লো ভয়ঙ্কর এই প্রতারণার মূলহোতা।

নওগাঁয় বসে নগরীর সদরঘাট এলাকার এক বিকাশ এজেন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তা তদন্তে নামে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ইউনিটের একটি দল। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁয় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্তের নাম সাগর প্রকাশ রিমন (২৩)। সে নওগাঁ জেলার মান্দা থানার বাংডা গ্রামের মো. হাসানের পুত্র।
সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, এই প্রতারকের বিরুদ্ধে পুলিশ পরিচয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নওগাঁয় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ডিমএপি, পাবনা, রাজশাহী ও নওগাঁর বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য ব্যক্তি থেকে এ কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

জানা যায়, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতো এই প্রতারক। প্রথমে পুলিশের বিভিন্ন ‘কন্ট্রোল রুম’ এর নম্বর নিয়ে নিজেকে পুলিশের এসপি, কখনো অতিরিক্ত এসপি পরিচয়ে কল দেয়। এরপর ওই থানা এলাকার দায়িত্বরত পুলিশ অফিসারের নম্বর নিয়ে তাকে ‘পুলিশের এসপি, এডিশনাল এসপি’ পরিচয় দিয়ে কল দেয়। এরপর ওই পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে বিকাশ এজেন্টের সাথে কথা বলে তার ব্যক্তিগত নম্বর নিত। পরে ওই বিকাশ বা নগদ এজেন্টকে কল দিয়ে নিজেকে পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে কৌশলে ওই বিকাশ এজেন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। এভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights