পেট্রল বাঁচাতে মোটরসাইকেল শেয়ার করতেন অক্ষয়, ফটোশুটের জন্য জ্যাকেট ধার
শোবিজ ডেস্ক
বলিউডের শীর্ষ তারকা হয়ে ওঠার বহু বছর আগে সাধারণ আর ১০ জন উঠতি অভিনেতার মতোই কঠিন স্ট্রাগলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল বলিউড খিলাড়ি অক্ষয় কুমারকে। সম্প্রতি ‘হিন্দি রাশ’-এর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে ‘জুনুন’ খ্যাত প্রবীণ অভিনেতা অবিনাশ ওয়াধাওয়ান অক্ষয়ের সেই নাম-যশহীন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন। মুম্বাইয়ের রাস্তায় তেলের খরচ বাঁচাতে একে অপরের মোটরসাইকেল শেয়ার করা থেকে শুরু করে ফটোশুটের জন্য পোশাক ধার নেওয়ার নানা কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।
পডকাস্টে আলাপচারিতার সময় অক্ষয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের কথা স্মরণ করে অবিনাশ বলেন, আমি তাকে এমন একটা সময় থেকে চিনি, যখন আমরা কেউই নায়ক হয়ে উঠিনি। তার নাম ছিল রাজীব আর আমার নাম ছিল রাকেশ। আমরা দুজনই লোকখণ্ডওয়ালায় থাকতাম এবং দুজনেরই মোটরসাইকেল ছিল। কখনো সে আমার বাইক চালাত, আবার কখনো আমি তার বাইক চালাতাম। এভাবে আমরা পেট্রলের খরচ বাঁচাতাম। ফটোশুটের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, যখনই তার কোনো ফটোশুট থাকত, সে আমার বাড়িতে এসে জ্যাকেট ধার করে নিয়ে যেত। আর আমার ফটোশুট থাকলে আমি তার বাড়ি গিয়ে তার জ্যাকেট নিয়ে আসতাম।
অক্ষয়ের শুরু থেকেই মার্শাল আর্টের প্রতি অগাধ টান ও ফিটনেসের প্রতি কঠোর নিষ্ঠার প্রশংসা করে অবিনাশ জানান, তখন থেকেই অক্ষয় অ্যাকশনে পারদর্শী ছিলেন এবং তার ব্ল্যাক বেল্টসহ নানা ডিগ্রি ছিল। এমনকি তারা একসঙ্গে নাচের ক্লাসেও যেতেন। অক্ষয়ের তৎকালীন প্রাত্যহিক রুটিন স্মরণ করে অবিনাশ বলেন, সে এমন একজন মানুষ ছিল যে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠত। আমি তখন পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতাম। ভোর ৬টার দিকে আমি যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন সে আমাকে তুলতে চলে আসত। ভারসোভার নানা-নানি পার্ক নামে একটি জায়গায় সে মার্শাল আর্টসের অনুশীলন করত। সে আমাকেও সঙ্গে যেতে বলত, কিন্তু এত ভোরে ঘুম থেকে ওঠা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।
পাহাড়ি শহর উটিতে শুটিং চলাকালের একটি ঘটনা তুলে ধরে অবিনাশ বলেন, শুটিংয়ের ব্যস্ত সূচি থাকা সত্ত্বেও অক্ষয়ের ফিটনেসচর্চায় কোনো ঘাটতি পড়ত না। দুটি ভিন্ন সিনেমার কাজে একই সময়ে উটির একই হোটেলে অবস্থান করার সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমার শিফট শুরু হতো সকাল ৭টায়, তাই আমি তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়তাম। আর তার শিফট শুরু হতো সকাল ৯টায়। তা সত্ত্বেও সকাল ৬টায় উটির রাস্তায় তাকে জগিং করতে দেখা যেত। সকাল ৯টার আগে কাজ না থাকা সত্ত্বেও আমরা সেটে যাওয়ার পথে দেখতাম সে রাস্তায় দৌড়াচ্ছে। এভাবেই সে তার জীবনযাপন পরিচালনা করত। অবিনাশ আরও জানান, সময়ের ব্যাপারে অক্ষয় অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, কাজ শেষ হলেই সোজা বাড়ি ফিরতেন এবং পরদিন ঠিক সময়ে সেটে পৌঁছে যেতেন।
বর্তমানে অক্ষয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে কিছুটা আফসোসের সুরে অবিনাশ জানান, সময়ের সঙ্গে তাদের জীবন ভিন্ন ভিন্ন পথে হেঁটেছে। তিনি বলেন, তার জীবন অন্য একটি দিকে চলে গেছে, আর আমি আমার জীবন নিয়ে আছি। বহু বছর ধরে আমাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। প্রায় ৫-৬ বছর আগে ফোনে একবার কথা হয়েছিল, কিন্তু তারপর নম্বর বদলে যাওয়ায় আর যোগাযোগ হয়ে ওঠেনি।
উল্লেখ্য, অবিনাশ ওয়াধাওয়ান ‘জুনুন’, ‘গীত’ ও ‘বালমা’-র মতো আলোচিত চলচ্চিত্রে এবং ‘বালিকা বধূ’ ও ‘সাপনা বাবুল কা… বিদাই’-এর মতো জনপ্রিয় হিন্দি টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পান।
সূত্র: এনডিটিভি
