পেশা বদলে দিয়েছে হাঁড়িভাঙা
নজরুল মৃধা, রংপুর
রংপুর সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর হোসেন, হারাগাছের আরিফ হোসেন, গঙ্গাচড়ার রাশেদ মিয়া ও আবদুছ ছালাম ভ্যানে করে মাছ, সবজি ও কলা বিক্রি করতেন। হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুম শুরু হওয়ার পর তাঁরা বিভিন্ন বাগান ও হাট থেকে আম কিনে শহরের নানান স্থানে বিক্রি করছেন। তাঁদের মতো হাজারো ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর পেশা বদলে দিয়েছে হাঁড়িভাঙা। তাঁরা জানান, মাছ ও সবজির চেয়ে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রিতে বেশি লাভ হচ্ছে। তাই মূল পেশা সাময়িক বন্ধ রেখে আম বিক্রি করছেন। এ ছাড়া কলা, পেয়ারা, মাল্টা, আপেলসহ অন্যান্য ফলের চাহিদা কমে যাওয়ায় ওইসব ব্যবসায়ীও হাঁড়িভাঙা আম বিক্রিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কয়েকটি বাগান ঘুরে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাঁড়িভাঙা যেমন রংপুরের আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়তা করছে; সেই সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করছে। হারাগাছ পশ্চিমপাড়ার আম পাড়া শ্রমিক আবু সাইদ, মোসলেম উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, এ সময় খেতখামারে কাজ থাকে না। বাড়িতে বসে থাকতে হয়। তাই আমের মৌসুমে এক-দেড় মাস বাগান পাহারা ও গাছ থেকে আম পেড়ে মাসিক ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পাচ্ছেন। তাঁদের মতো ১৫ হাজারের বেশি শ্রমিক এ সময় গাছ থেকে আম পাড়ার কাজ করছেন। বৈলডোপ গ্রামের আমবাগান মালিক নজরুল ইসলাম ও মানজারুল ইসলাম জানান, তাঁদের নিজেদের চারটি বাগান রয়েছে। এ ছাড়া আরও চারটি বাগান লিজ নিয়েছেন। এবার আমের দাম স্বাভাবিক থাকায় আম পাড়ার শ্রমিকরাও মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন। এ অঞ্চলে ৩ হাজারের বেশি আমবাগান রয়েছে। একেকটি বাগানে দেড় থেকে দুই শ গাছ রয়েছে। কোনো কোনো বাগানে আরও বেশি। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এ বছর রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ১ হাজার ৯০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার টনের ওপর। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার গরমের কারণে নির্ধারিত সময়ের একটু আগে আম পেকেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। হাঁড়িভাঙা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
