প্রতিপক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে: বাদশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়া-৬ সদর আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেছেন, প্রতিপক্ষ (জামায়াত) পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব প্রচার করা হচ্ছে। বিএনপির পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় তাদের ব্যানারের ওপর অন্য দলের ব্যানার টানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রেজাউল করিম বাদশা আরও বলেন, তারা সহনশীল অবস্থানে আছেন এবং কোনো উসকানিতে সাড়া দিচ্ছেন না। তিনি নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বগুড়াকে মাগুরা বলা হাস্যকর ও ভিত্তিহীন। প্রতিপক্ষের (জামায়াত) বগুড়ায় জয়ের কোনো ইতিহাস নেই। ভোটারদের কাছে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে প্রতারণামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটাররা আবারও বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন ইনশাল্লাহ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন, মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ উন-নবী সালাম, কেএম খায়রুল বাশার, শহর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু প্রমুখ।

এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) বগুড়া শহরের দলীয় কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে এবং তার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় তাদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা, সভা পণ্ড করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ভোটের দিন কেন্দ্র দখল ও কারচুপির চেষ্টা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি পাঁচ দফা দাবির কথা জানান। যার মধ্যে রয়েছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন, নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights