প্রধান নির্বাচক বাশারের মূলমন্ত্র ‘স্বচ্ছতা’
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার। টেস্টে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন হাজারি ক্লাবে নাম লেখান বাশার। কিংবদন্তির ক্রিকেটার বাশার জাতীয় দলের অধিনায়কও ছিলেন। ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর নির্বাচক হিসেবে বেশ লম্বা সময় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নির্বাচক প্যানেলে সম্পৃক্ত ২০১১ সাল থেকে। ৫৩ বছর বয়সি সাবেক অধিনায়ক প্রথমবার নির্বাচক হিসেবে কাজ করে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। টানা চার বছর কাজ শেষে দায়িত্ব নেন জাতীয় নারী দলের। ২০১৬ সালে পুনরায় পুরুষ ক্রিকেটারদের নির্বাচক প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা কাজ করেছেন। এবার ফিরেছেন দুই বছর পর। ফিরেই প্রথমবারের মতো প্রধান নির্বাচক হয়েছেন। সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু শারীরিক অসুস্থতার জন্য প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাইলে আগ্রহী হন হাবিবুল বাশার। যদিও বিসিবি নির্বাচক চেয়ে সার্কুলার দেয়। ১৬ জন আগ্রহী প্রার্থী আবেদন করেন। গত পরশু তাদের মধ্যে থেকে বাশার সুমনকে প্রধান করে ৪ সদস্যের নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করে। নির্বাচক প্যানেলের অন্যতম সদস্য জাতীয় দলের সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত আগে থেকেই আছেন। প্রথমবারের মতো নির্বাচক হয়েছেন নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী। প্রধান নির্বাচক হয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চান বাশার, ‘প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব অনেক বেশি। নির্বাচক প্যানেলের পুরো দায়িত্ব প্রধান নির্বাচকের। আমি এর আগেও নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
বাশারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেলের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজ। ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-২০ খেলতে এপ্রিলে ঢাকায় আসছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। সাবেক অধিনায়ক বাশার নির্বাচক হয়ে দীর্ঘসময় কাজ করেছেন। প্রধান নির্বাচক হতে পেরে ভালো লাগছে বলেন বাশার, ‘আকরাম ভাই, ফরুক ভাই ও নান্নু ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছি। নির্বাচক হিসেবে যখন কাজ করেছি, তখন থেকেই প্রধান নির্বাচক হওয়ার ইচ্ছে ছিল। এটা অনেক বড় সম্মান ও বড় দায়িত্ব। প্রধান নির্বাচক হিসেবে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’ নির্বাচক কমিটি সাধারণত তিন সদস্যের হয়। এবার চার সদস্যের। সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কিংবা অন্য কারও হস্তক্ষেপ থাকতে পারে। জোড়-বেজোড় সংখ্যা নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘চারজনের কমিটি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। কমিটির সংখ্যা যাই হউক না কেন সিদ্ধান্ত মূলত প্রধান নির্বাচকেরই।’
২০১১ সাল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিজ্ঞতার ভান্ডার অনেক। সেই অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাজে লাগাতে চান। প্রধান নির্বাচক হিসেবে একটি নিজস্ব ধারায় ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান বাশার, ‘স্বচ্ছতার পাশাপাশি দল নির্বাচনে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’
বাশার দেশের হয়ে ৫০ টেস্টে ৩০২৬ রান, ১১১ ওয়ানডেতে ২১৬৮ রান করেছেন। হাসিবুল হোসেন শান্ত ৫ টেস্টে ৬ উইকেট ও ৩২ ওয়ানডেতে ২৯ উইকেট নিয়েছেন। নাঈম ইসলাম ৮ টেস্টে ৪১৬ রান, ৫৯ ওয়ানডেতে ৯৭৫ রান, ১০ টি-২০ ম্যাচে ১৩০ রান করেছেন। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান নাঈমের। ১৮৬ ম্যাচে ৩৪ সেঞ্চুরিতে রান করেছেন ১১ হাজার ২৫৩। নাদিফ চৌধুরী ৩ টি-২০ ম্যাচে রান করেছেন ২৭। চার নির্বাচকের দুজনই নতুন মুখ নাঈম ও নাদিফ। শান্ত বেশ অনেক দিন ধরেই কাজ করছেন। এমন একটি নির্বাচক প্যানেল নিয়ে কাজ করা ভাবনা ইতিবাচক প্রধান নির্বাচকের, ‘নির্বাচক কমিটির সবাই যোগ্য। নাঈম অনেক লম্বা সময় ধরে ক্রিকেট খেলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়াও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পদচারণ অনেক। নাদিফ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কম খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা অনেক। এ ছাড়া নাদিফ জুনিয়র দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। আমি আশা করছি, দুজনেই ভালো করবেন। শান্ত অভিজ্ঞ।’
