প্রয়োজন হলে দিল্লি যাব, ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দেব: মমতা

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কর্মসূচি চলাকালে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সিজেপি কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংসদ ভবন ছাড়তে হয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা দেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজেও দিল্লিতে গিয়ে ককরোচ পার্টির আন্দোলনে অংশ নেবেন।

‘একুশে জুলাই’ শহীদ দিবস উপলক্ষে কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে আয়োজিত সমাবেশে মমতা বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয়, আমি দিল্লি যাব এবং ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দেব। কারণ আমাদের সমর্থন প্রথম থেকেই ছিল, আছে এবং থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র এক ছাতার নিচে আসার সময় হয়েছে। গোটা দেশের, এমনকি পশ্চিমবঙ্গের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আমি এ আহ্বান জানাচ্ছি।’

নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে মমতা বলেন, ‘মানুষ এখন বিজেপির অত্যাচার বুঝতে পারছে। এই অত্যাচার স্ট্যালিন ও হিটলারকেও ছাড়িয়ে গেছে।’

সমাবেশে তৃণমূল ত্যাগীদেরও কড়া বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘নকল বেড়াল তপস্বী না হয়ে, বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান। আমরা বেঁচে গেছি। চোরগুলো বিজেপিতে চলে গেছে। তাদের আর ফিরিয়ে নেব না। আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে। এই লড়াই তখনই থামবে, যখন দেখব আপদগুলো বিদায় নিয়েছে।’

তৃণমূলের প্রতীক ‘ঘাসফুল’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার দলের প্রতীক কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। দরকার হলে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত যাব। আমি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আইনত আমাদের প্রতীক কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। মানুষ হৃদয় থেকে যেটাকে গ্রহণ করে, সেটাই দলের প্রকৃত প্রতীক, ঐতিহ্য ও ইতিহাস।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights