প্রায় শতভাগ কারখানায় বোনাস পরিশোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, ‘বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ করেছে। ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা। এ ছাড়া আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ কারখানা মার্চের আংশিক বেতন অগ্রিম পরিশোধ করেছে।’ গতকাল রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘অবশিষ্ট দুটি কারখানার ফেব্রুয়ারির বেতন ও অবশিষ্ট চারটি কারখানার ঈদ বোনাস দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া মহাসড়কে চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে কারখানা ছুটি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্প চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এ তিনটি বড় চাপ পোশাকশিল্পকে একযোগে প্রভাবিত করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।’ মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে তহবিল সংগ্রহ করে উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী কিছু কারখানায় বড় ধরনের আর্থিক সংকট ছিল। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে মালিক, ব্যাংক এবং শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সেই কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে জানাচ্ছি যে বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারির বেতন নিয়ে অমীমাংসিত কোনো সমস্যা রয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights