ফলন ভালো হলেও কৃষকের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ !

জামালপুর প্রতিনিধি : রিপন রাজ

মৌসুমের শুরুতেই আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এ বছর অন্যান্য বছরের থেকে আলুর ভালো ফলন হয়েছে । ফলন ভালো হলেও তাঁদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। কারণ, বাজারে আলুর দাম কমে গেছে। প্রতি মন আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত । এভাবে চলতে থাকলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ , দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার আলুর চাষ ও বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলুর ফলন বেশি হওয়ায় এবং বাজারে অন্যান্য সব সবজির দাম কমে যাওয়ায় আলুর এরকম দর পতন হয়েছে।
চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছে। ফলে চাহি হিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে গেছে। আর এ কারণেই দাম পড়ে গেছে। এদিকে সন্তোষজনক দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক খেত থেকে আলু তুলছেন না।

বকশীগঞ্জের নাঈম মিয়া বাজারে সবজি বাজারে শনিবার গিয়ে দেখা যায়, চাষিরা আলু নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ক্রেতা নেই তেমন। এই বাজারে প্রতি কেজি আলু ১২ থেকে ১৫ টাকা । অথচ দুই সপ্তাহ আগেও আলুর দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। এখানে সাদা গ্র্যানুলা জাতের আলু প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, অ্যাস্ট্রারিক বা স্টিক, কার্ডিনাল, এবং লাল পাকড়ি জাতের আলু ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে আজ শনিবার।

বালুরচর এলাকার আলুচাষি শামীম মিয়া শেয়ার বিজ পত্রিকাকে বলেন, ‘আলুর দাম ভালো পাব এই আশায় আমি আলু চাষ করেছি কিন্তু এখন এই পরিস্থিতিতে আমি ক্ষতির শিকার হয়েছি তাই আমি আর আলুর চাষ করবো না।’

দেওয়ানগঞ্জের পারমরামপুর ইউনিয়নের চাষিরাও বলেছেন, গত বছরের শেষের দিকে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকা দরে। একটু বেশি লাভের আশায় এবার কৃষকেরা আবাদ বেশি করেছেন। কিন্তু এবার একেবারে দাম পড়ে গেছে।

এ ব্যাপারে এই জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার কৃষি অফিসার জনাব, আমিনুল ইসলাম শেয়ার বিজ পত্রিকাকে বলেন,” আলুর দাম যে পড়ে গেছে, তা আমরা জানি । আলু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এই সমস্যা হয়েছে। এই আলু বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না”।

এ ব্যাপারে উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান , “এরকম যদি দাম উঠানামা করে তাহলে কৃষক যারা রয়েছে তারা দিশেহারা হয়ে পড়বে। তাই কৃষকদের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ফসল বীমা চালু করার বিষয়ে আগ্রহ জানান”।

এদিকে গত শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিসিএসএর কার্যালয়ে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া ও হিমাগার ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।
হিমাগারে প্রতিকেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights