ফুটসালে ইতিহাস গড়ার দিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতে বাংলাদেশ খেলবে না। এ নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় চলছে। কেউ কেউ অবুঝের মতো বলছেন, এক বিশ্বকাপ না খেললে কিছুই হবে না। এখানে দেশের মর্যাদাটাই আসল। আরেক পক্ষ বলছেন বিশ্বকাপে না খেলে বড় ভুল করে ফেলল বাংলাদেশ। এ আলোচনা আরও কয়েক দিন চলবে। তবে এর মধ্যে নারী ফুটবলাররা দেশকে চমক দেওয়ার মতো শিরোপা জিততে যাচ্ছে সেদিকে হয়তো খেয়ালই নেই। আসলে ফুটসাল বলেই এমনটি হচ্ছে। যদিও এটি ফুটবলের অংশ। কিন্তু ফুটসালে কোনোভাবে অভ্যস্ত নন বাংলাদেশের মেয়েরা। আন্তর্জাতিক তো দূরের কথা, ঘরোয়া আসরেও এ খেলা খেলেননি কেউ। একেবারে নতুন অবস্থায় খেলতে নেমে মেয়েরা আন্তর্জাতিক ফুটসালে ট্রফি জিততে যাচ্ছে।

সেই ইতিহাস গড়ার দিন আজই হতে পারে। বাংলাদেশ শিরোপা জিততে যাচ্ছে সেই সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে। তাঁর নেতৃত্বে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে অসংখ্য ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নারী জাতীয় দলের টানা দুবার সাফে অপরাজিত শিরোপা জেতাটা। সাফ ফুটবলের পর সাফ ফুটসালেও বাংলাদেশ ইতিহাস গড়বে সাবিনার নেতৃত্বে। থাইল্যান্ডে রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করলেই হাতে উঠে যাবে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি। তাও আবার অপরাজিত ভাবে। পাঁচ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে ভুটান ১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। অর্থাৎ শেষ ম্যাচে যদি বাংলাদেশ হেরে যায় অন্য দিকে ভুটান জিতলে তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে। ফুটসালে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পরও সাবিনা, কৃষ্ণা, মাসুরাদের তরি তীরে এসে কি ডুবে যাবে? না, সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ বললেও ভুল হবে না। কেননা মালদ্বীপ পুরুষ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হলেও মেয়েরা পাঁচ ম্যাচ খেলেও কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি। দুর্বার বাংলাদেশ এমন দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে হারবে তা অলৌকিক ভাবনা। তারপরও ফুটসালে তো ফুটবলের মতো অঘটন ঘটে থাকে। টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে অনেকের ধারণা ছিল খালি হাতে দেশে ফিরবেন সাবিনারা। ফুটসালে তো তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সেই সাবিনারা ফুটসালে দেশকে এনে দিচ্ছেন বিরল সম্মান। প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হতে চলেছে। থাইল্যান্ডে আজ দুপুরে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। অপেক্ষা শুধু একটাই কখন ট্রফি নিয়ে উৎসব মাতবেন মেয়েরা। কারও কারও ধারণা, সাফ ফুটবলে নেতৃত্বে দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে বলেই সাবিনাকে ফুটসালে অধিনায়ক করা হয়েছে। বাস্তবে কি তাই? অনেকে তো এ কথাও বলছেন বাফুফে কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল নিশ্চিত ভরাডুবি টুর্নামেন্টে সাবিনাকে নেতৃত্ব দিলে কী এমন আসে যায়। জাতীয় দল থেকে তো দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাই একটু সম্মান দেখালে ক্ষতিই বা কি?

সাবিনা, কৃষ্ণা রাণী সরকার, মাসুরা পারভীনরা যে ফুরিয়ে যায়নি তা ফুটসালেরই প্রমাণ দিয়েছেন। সাবিনা যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন, তা ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে হার মানিয়েছে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১০ গোল তারই। ফুটসাল ও ফুটবলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু মেয়েরা তো এ খেলায় মোটেই অভ্যস্ত ছিলেন না। সাফই তাদের ক্যারিয়ারে প্রতিযোগিতামূলক প্রথম খেলা। সেখানে কি না বাজিমাত করতে চলেছেন।

প্রথম ম্যাচে ভারতকে উড়িয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন নতুন কৌশল হলেও এ খেলার শিরোপা জেতার সামর্থ্য তাদেরও রয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ড্র করায় শঙ্কায় ছিল কী যেন হয়। শেষ পর্যন্ত নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে উৎসবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। আজ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করলেই বিজয়ের পতাকা উড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights