ফ্লাইদুবাইয়ের সন্দেহভাজন পাইলটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাওয়াহিরির ছবি

অনলাইন ডেস্ক

ফ্লাইদুবাইয়ের তেল আবিবগামী একটি বিমানে সহপাইলটকে কুঠার দিয়ে আক্রমণ এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠা পাইলটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরোনো পোস্টে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি ও ২০০৯ সালের আত্মঘাতী হামলাকারী হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওয়ির ছবি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার পোস্টে ‘কট্টরপন্থী’ ও ‘নারীবিদ্বেষী’ বক্তব্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি নামের ওই পাইলট গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহপাইলটকে আক্রমণের অভিযোগে সন্দেহভাজন। দুই সূত্র ও এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, এর আগে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে কাজ করার সময় তার ‘উগ্রপন্থী’ মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালে তাকে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে এক আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন।

হাম্মামির নামে থাকা একটি লিংকডইন প্রোফাইলে দেখা যায়, তিনি সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়েন। পরে রয়্যাল এয়ার মারকে যোগ দেন। প্রোফাইলটি পরে মুছে ফেলা হয়েছে।

ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পর তার নামে থাকা লিংকডইন অ্যাকাউন্টে দুটি পোস্ট দেওয়া হয়। একটি ভিডিওতে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের ককপিট এবং ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আল ও আর্কিয়ার উড়োজাহাজ দেখা যায়। ভিডিওর শেষে জাওয়াহিরি ও আল-বালাওয়ির ছবি ছিল। দ্বিতীয় পোস্টে মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার কথা বলা একটি কবিতা ছিল। একই ভিডিও ইনস্টাগ্রামেও প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলা হয়।

সিএনএনের বিশ্লেষণে হাম্মামির মুছে ফেলা প্রায় ৩ হাজার টুইটেও কট্টর ধর্মীয় ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে। ২০২২ সালের কয়েকটি পোস্টে তিনি নারীদের বিয়ের পর চাকরি না করার পক্ষে মত দেন। নারী-পুরুষের কর্মক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করারও সমালোচনা করেন তিনি।

হাম্মামির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি তার নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি বলেছেন, পাইলট সহকর্মীকে ককপিটে কুঠার দিয়ে আঘাত করে বিমানটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন, যা একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিবন্ধিত হওয়ায় ঘটনার তদন্তে দেশটির কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার রয়েছে। ইসরায়েলি বিভিন্ন সংস্থাও তদন্তে যুক্ত হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights