বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা, গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির দাবি

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পৃথক দুর্ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ভাবিয়ে তুলেছে বগুড়াবাসীকে। সড়কটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতি, চালকদের অসচেতনতা এবং কার্যকর নজরদারির অভাবে এই মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা।

এর আগে, গত ৭ আগস্ট বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও প্রায় ২৫ জন। একই দিন বিকেলে ওই এলাকায় পৃথক একটি প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ আরও দুজন নিহত হন।

একই সড়কে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় নয়জনের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ৯ আগস্ট বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে অন্য একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে আরও তিনজন নিহত হন।

পরপর এসব দুর্ঘটনায় সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে বিশেষ করে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহনগুলো অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা সামনে থাকা যানবাহনকে নিরাপদ দূরত্বে অনুসরণ না করার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর হলেও নিয়মিতভাবে সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত কার্যক্রম চোখে পড়ে না। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে কার্যকর সাইন-সিগন্যাল, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, যানবাহনের ফিটনেস ও কাগজপত্র পরীক্ষা, চালকদের লাইসেন্স যাচাই এবং বেপরোয়া গতির যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু চালকদের সচেতন করাই যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে সড়কের অবকাঠামোগত বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সাইন-সিগন্যাল
স্থাপন, সড়কের দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ট্রাফিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

পরপর দুর্ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানি বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শর করেছে।

এদিকে এরুলিয়ায় বাসচাপায় সাতজন দিনমজুর নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামি বাসচালক নেছারুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১২)। ঘটনার ২০ দিন পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোররাতে শিবগঞ্জ উপজেলার দৌহপাড়া সৈয়াদপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নেছারুল ইসলাম সোনাতলা উপজেলার আগুনিয়া তাইড় গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে।

বিআরটিএ বগুড়া সার্কেলের সহকারী পরিচালক মোহাম্মাদ হারুন উর রশিদ জানান, বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights