আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে আত্মগোপনে ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস
চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুর শহরের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার ব্যক্তিরা হলেন পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাস। চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই গাজী কালামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটের ‘এস কে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী। গত ১৯ আগস্ট থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় তার বাসার মালিকের ছেলে রাসেল খান ২২ আগস্ট চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
এরপর পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পটিয়ায় অভিযান চালিয়ে পরিবারের চার সদস্যকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে পিন্টু দাস স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। তবে বন্ধক রাখা স্বর্ণ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এবং আত্মগোপনের প্রকৃত কারণ জানতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পরিবারের আত্মগোপনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের স্বজন, ব্যবসায়ী ও পাওনাদারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। কয়েক দিন ধরে ঘটনাটি নিয়ে চাঁদপুর শহরে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছিল।
