বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ফুলবাড়ীতে শুভসংঘের তালবীজ রোপন
অনলাইন ডেস্ক
‘বেশি করে তালবীজ বপন করি, বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাই এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তালবীজ রোপন কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যেও এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ফুলবাড়ী উপজেলার ১ নম্বর এলুয়াড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের পাশে তালবীজ রোপন করা হয়। শিবপুর দেলদারের মোড় থেকে গণিপুর আদিবাসী গ্রামের রাস্তা, বেজাই থেকে জলপাইতলী বাজার, জলপাইতলী বিজিবি ক্যাম্প থেকে শিবপুর চৌধুরীপাড়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে তালবীজ বপন করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা।
এ ছাড়া খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী-আটপুকুর সড়কের মোক্তারপুর থেকে খয়েরবাড়ী এলাকার বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুই পাশে তালবীজ বপন করা হয়। সব মিলিয়ে কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫৫০টি তালবীজ বপন করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জলপাইতলী বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে আবহাওয়ার চেনাজানা ধরণ বদলে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। বজ্রপাতের মতো দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। তালবীজ বপনের মতো একটি মহতী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
গণিপুর আদিবাসী গির্জার প্রধান গোপাল বলেন, তাদের এলাকার রাস্তার দুই পাশে তালবীজ বপন করায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের ধন্যবাদ। তালগাছ দীর্ঘদিন টিকে থাকে এবং বড় হয়ে পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বেশি করে তালবীজ বপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা বলেন, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি তালগাছ পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অনেক এলাকায় তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে ও উপযুক্ত স্থানে তালবীজ বপনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তালবীজ বপন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠের ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি আনোয়ার সাদাত, বসুন্ধরা শুভসংঘ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন, দপ্তর সম্পাদক হাসানুর রহমান, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক কৃষ্ণ রায়, কার্যকরী সদস্য সোহানুর রহমান সোহাগ, জীবন, ফিরোজ প্রমুখ।
এ ছাড়া স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শাহী ইমরান, পশু চিকিৎসক রাসেল ইসলাম, নুর আলম, স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর, দিলদার, সাদ্দাম, মুন্না মোল্লাসহ অনেকে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
