বরিশালে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে খুন করে পালালো স্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল নগরীতে ভাড়া বাসার শয়নকক্ষ থেকে নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) নামে এক আইনজীবীর সহকারীর (মুহুরী) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোরে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত নুরুজ্জামান বরিশাল জেলা আইনজীবী সহকারী (মুহুরী) সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মুলাদী উপজেলার পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামানের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে মালয়েশিয়ায় থাকেন এবং মেয়ের বিয়ে হয়েছে ঢাকায়। ফলে নুরুজ্জামান ও তার স্ত্রী ওই ভাড়া বাসায় দুজনই থাকতেন।
নিহতের ভাগ্নে মো. জামাল বলেন, পরকীয়ার বিষয় নিয়ে মামা-মামির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতে মামাকে কিছু খাইয়ে অচেতন করার পর মাথার বাম পাশে ও বাম চোখের ওপর আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
জামাল আরও বলেন, নাসিমা বাসা থেকে টাকা-পয়সা, জমির কাগজপত্র, নুরুজ্জামানের মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র নিয়ে রাত ৩টার দিকে বেরিয়ে যান। এরপর বাসার দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে তিনি তার বোনের মেয়ের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে মামাকে হত্যার কথা জানান এবং সকালে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান। পরে বিষয়টি নুরুজ্জামানের মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছেলেকে জানানো হলে তিনি অন্য স্বজনদের বিষয়টি অবহিত করেন।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। স্ত্রী নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল বলে জানা গেছে।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে নুরুজ্জামানকে চেতনানাশক কোনো দ্রব্য খাওয়ানোর পর ধাতব কোনো বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পরে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে তার স্ত্রী পালিয়ে যান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
