বাবা হোর্হেকে নিয়ে মেসির আবেগঘন স্মৃতিচারণ
অনলাইন ডেস্ক
যার পায়ের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকে গোটা ফুটবল বিশ্ব, যার পায়ের মায়াবী শিল্পে নতুন করে ফুটবলকে ভালোবেসেছে কোটি প্রাণ, যার শূন্যে আঁকা ক্যানভাসে সবুজ গালিচা বারবার ধন্য হয়েছে। সেই লিওনেল মেসির জন্ম কিন্তু শুধু বিধাতার একার সৃষ্টি নয়; সাধারণ এক কিশোর লিওনেল থেকে আজকের কিংবদন্তি ‘মেসি’ হয়ে ওঠার নেপথ্যে যিনি নিজের রক্ত-ঘাম জল করেছিলেন, সেই বাবা হোর্হে মেসির কাছে তো শুধু লিওনেল মেসি নন, ফুটবলই চিরকৃতজ্ঞ।
মাঠের সবুজ ঘাসে লিও যখন একের পর এক গোলের আনন্দে ভাসতেন, নিঃশব্দে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন একজনই—তার বাবা, তার মেন্টর, তার সবচেয়ে বড় আশ্রয় জোর্হে মেসি। আজ সেই পরম ছায়াবৃক্ষ হারিয়ে গেছে ওপারে, রয়ে গেছে কেবল বাবার শেখানো পাঠ আর একবুক স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস।
বাবার বিদায়ের আগেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে আবেগপ্লুত কণ্ঠে মহাতারকা মেসি যেন ফিরে গিয়েছিলেন হারানো সেই শৈশবে, শোনালেন এক বাবা আর ছেলের অকৃত্রিম ভালোবাসার মহাকাব্য।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’তে বাবা হোর্হে মেসিকে নিয়ে মেসির কিছু স্মৃতিচারণ:
বাবার গঠনমূলক সমালোচনা নিয়ে মেসি: ‘আমার বাবা আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। তিনি আমার ব্যাপারে ভীষণ কঠোর সমালোচক ছিলেন, যা আমাকে সবসময় আরও ভালো করার তাগিদ দিত। অবশ্য তিনি এটাও জানতেন যে আমি নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক। কিন্তু আমার মায়ের কাছে আমিই সবসময় সেরা—এমনকি আমি যখন জঘন্য খেলতাম তখনও! মায়ের চোখে আমি প্রতিটা ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলি, কোনো কিছুতেই আমার দোষ থাকে না। আর দশটা মায়ের মতোই উনি।’
বাবার হাড়ভাঙা খাটুনি ও আদর্শ: ‘আমি ওনার অনেক স্বভাবই পেয়েছি। তবে উনি সারাদিন কাজ করতেন বলে আমাদের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটাতে পারতেন না। ভোর ৪টায় উঠতেন আর ফিরতেন রাতের খাবারের সময়। যখনই দেখা হতো, উনি সেই সময়টা বেশ উপভোগ করতেন; কখনো আমার ওপর চিৎকার পর্যন্ত করেননি। আমি ওনাকে খুব মিস করতাম। আজ আমি ভাগ্যবান যে আমার সন্তানদের সাথে অনেক বেশি সময় কাটাতে পারি। নিজের বাচ্চাদের মানুষ করার ক্ষেত্রে আমি আমার বাবা-মাকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’
ফুটবল নিয়ে বোঝাপড়া: ‘হোর্হে ফুটবল দেখতে ও খেলতে ভীষণ ভালোবাসেন, আমার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন। বার্সেলোনা এবং জাতীয় দলের হয়ে আমার ম্যাচগুলো নিয়ে আমাদের কথা হয়, ব্যাস অতটুকুই। তিনি ফুটবল ভালোই বোঝেন… (হেসে)। ব্যক্তিজীবনে এবং দলগতভাবে—উভয় ক্ষেত্রেই আমরা বিষয়গুলোকে বেশ একইভাবে দেখি।’
উন্নতির তাগিদ: ‘ধরা যাক আমি একটা অসাধারণ ম্যাচ খেলেছি, তবুও তিনি আমাকে বলতেন, “তুই তো একটা সুযোগ মিস করেছিস!”—এই বলে আমাকে একটু খেপিয়ে দিতেন। এতে আমার ভালোই লাগত, নিজের ভুল শুধরে আরও ভালো করার জিল বা তাগিদ পেতাম। আমরা দুজনেই নিজের কাজের কঠোর সমালোচক।’
