বিশুদ্ধ পানির সংকটে চট্টগ্রামের তিন উপজেলা, বেড়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ইমরান এমি, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি উপজেলা। তারমধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি, সড়ক, কৃষিজমি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে নিরাপদ খাবার পানির। এ তিন উপজেলায় ৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্যার পর নলকূপের পানি দূষিত হয়ে পড়লে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপগুলো জীবাণুমুক্ত করা, প্রয়োজনীয় মেরামত ও নতুন নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় দ্রুত নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
জানা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় মোট ১৯ হাজার ৯৬১টি নলকূপ সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ১১০টি নলকূপ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৭ হাজার ৮৫১টি নলকূপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পানির উৎসের মধ্যে সরকারি ও ব্যক্তিগত উভয় ধরনই রয়েছে। এ তিন উপজেলায় বন্যায় ৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বন্যার পানি ও কাদা-মাটি জমে যাওয়া এবং পাহাড় ধসের কারণে হাজারো নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন মানুষেরা। পাশাপাশি এসব উপজেলায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের চট্টগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ পুনঃস্থাপন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের মাঝে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিন লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ উপজেলায় সাত হাজার ১২৭টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচ হাজার ১৫টি নলকূপ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আরও দুই হাজার ১১২টি নলকূপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আট হাজার ২৬টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চার হাজার ৫২৩টি নলকূপ সম্পূর্ণ এবং তিন হাজার ৫০৩টি নলকূপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার অনেক এলাকায় নলকূপের মুখ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কিংবা বন্যার কাদা ও দূষিত পানি ঢুকে পড়ায় সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, চন্দনাইশ উপজেলার দুই লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে চার হাজার ৮০৮টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারমধ্যে দুই হাজার ৫৭২টি সম্পূর্ণ এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজার ২৩৬টি নলকূপ।
