বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ, তবু মেক্সিকোর মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত ইরান

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়েছে। কিন্তু বিদায়ের বেদনাকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে মেক্সিকোর মানুষের ভালোবাসা। রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দীর্ঘ ভ্রমণ আর নানা জটিলতার মধ্যে বিশ্বকাপ খেলতে এসে তিহুয়ানায় যে আন্তরিকতা পেয়েছে ইরান, সেটিই এখন দলটির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে মিসরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের ভাগ্য আর নিজেদের হাতে রাখতে পারেনি ইরান। শেষ মুহূর্তে করা একটি গোল ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল হয়ে যায়। পরে অস্ট্রিয়া আলজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরালে সেরা তৃতীয় হওয়ার দৌড় থেকেও ছিটকে যায় ইরান। ফলে নকআউটে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় তাদের।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দলটির প্রস্তুতিতেও দেখা দেয় বড় জটিলতা। ভিসা-সংক্রান্ত আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে নিজেদের প্রস্তুতি মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানায় নিয়ে আসে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রতিটি ম্যাচ শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার মেক্সিকোতে ফিরতে হতো দলটিকে।

এই কঠিন সময়ে মেক্সিকোর মানুষ ইরানকে আপন করে নেয়। প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে শত শত সমর্থক দলটির হোটেলের বাইরে ভিড় করতেন। খেলোয়াড়দের অটোগ্রাফ নেওয়া, ছবি তোলা এবং শুভকামনা জানানো ছিল তাদের নিত্যদিনের দৃশ্য।

বিশ্বকাপ শেষে বিদায়ের সময়ও সেই ভালোবাসা কমেনি। অনেক সমর্থক এমন টুপি পরে বিদায় জানাতে আসেন, যাতে লেখা ছিল, “ইরান, ভাই, তুমি এখন মেক্সিকান।” এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিদায়ের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেক্সিকোর মানুষ ও সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানায় ইরানের প্রতিনিধি দল। বার্তায় বলা হয়, মেক্সিকোর মানুষের আন্তরিকতা তাদের নিজেদের বাড়িতেই থাকার অনুভূতি দিয়েছে।

তারা আরও লেখে, “তিহুয়ানা ছেড়ে যাওয়া আমাদের জন্য সত্যিই কঠিন। এখানে কাটানো স্মৃতি, গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব এবং মানুষের ভালোবাসা ইরান দলের প্রতিটি সদস্যের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে। ধন্যবাদ। আশা করি আবারও আমাদের পথ এক হবে।”

ইরানের রাষ্ট্রদূত ও ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও মেক্সিকোর মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

বিশ্বকাপে ইরানের যাত্রা হয়তো শেষ হয়েছে হতাশায়, কিন্তু তিহুয়ানার মানুষ যেভাবে দলটিকে আপন করে নিয়েছেন, তা ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights