বিশ্বকাপের পিচে লুকানো প্রযুক্তি, ৮ বছর ধরে চলেছে গোপন কাজ
অনলাইন ডেস্ক
আগামী জুনে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ। মাঠের ভেতরের উত্তেজনার পাশাপাশি পর্দার আড়ালে চলছে আরেকটি বড় প্রস্তুতি, নিখুঁত ফুটবল পিচ তৈরির বিজ্ঞানভিত্তিক প্রচেষ্টা।
২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় অস্থায়ী ঘাসের পিচ নিয়ে সমালোচনার পর এবার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না ফিফা। তাই ১৬টি ভেন্যুর প্রতিটি মাঠকে আন্তর্জাতিক মানে আনতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দীর্ঘ ৮ বছরের গবেষণা চালানো হয়েছে। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন সোরোচান এবং মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ট্রে রজার্স।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ডোম স্টেডিয়ামগুলো। ১৬টির মধ্যে ৫টি স্টেডিয়ামে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না। এই পরিস্থিতিতে ঘাস টিকিয়ে রাখতে কলোরাডোর বিশেষ খামারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঘাস উৎপাদন করা হয়েছে। পরে শিকড় অক্ষত রেখে নির্দিষ্ট মাপে কেটে রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে করে স্টেডিয়ামে পাঠানো হয়েছে।
স্টেডিয়ামে বসানোর পর সূর্যের আলোর ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ এলইডি গ্রো লাইট। এতে সূর্য ছাড়াই ঘাস সতেজ রাখা সম্ভব হচ্ছে। পিচের ঘাসের উচ্চতা ৫ মিলিমিটারের বেশি কমবেশি হলে বলের গতি ও বাউন্সে বড় প্রভাব পড়ে। তাই রোবোটিক বুট ও বল নিক্ষেপকারী মেশিন দিয়ে ঘাসের সহনশীলতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
আবহাওয়ার ভিন্নতার কারণে গরম অঞ্চলে ব্যবহার করা হচ্ছে বারমুডা ঘাস। আর শীতল এলাকায় কেন্টাকি ব্লুগ্রাস ও পেরেনিয়াল রাইগ্রাস। ঘাসকে আরও শক্তিশালী করতে এর মধ্যে কৃত্রিম ফাইবারও সংযুক্ত করা হয়েছে।
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ইনডোর ঘাসের সফল প্রয়োগের পর এবার আরও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছেন এই গবেষকরা। পুরো প্রকল্পে ফিফা ইতোমধ্যে ৫০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
বিজ্ঞানীরা তাদের কাজ শেষ করেছেন। এখন অপেক্ষা, সেই নিখুঁত পিচে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের লড়াই দেখার।
সূত্র: বিবিসি
