বৈদ্যুতিক গাড়িতেই আগামীর যাত্রা
জিন্নাতুন নূর
► পরিবেশবান্ধব ইভি প্রযুক্তির দিকে গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে
► ইভি জনপ্রিয় করতে সরকার ইতিবাচক ট্যাক্স নীতি গ্রহণ করেছে
► হ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ গণপরিবহনকে বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্য
বাংলাদেশে সময় এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি)। বৈদ্যুতিক গাড়িতেই হবে আগামীর যাত্রা। এই গাড়ির বাজার একদিকে যেমন বাড়ছে তেমনি ইভির বাজার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পরিবর্তনের ফলে দেশে জ্বালানিচালিত সনাতন গাড়ির তুলনায় পরিবেশবান্ধব ইভি প্রযুক্তির দিকে গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৮২৬টি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিআরটিএ থেকে নিবন্ধিত হয়েছে। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৬৯টি ফোর-হুইলার ইভি নিবন্ধিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ও খুচরা বাজারের হিসাব অনুযায়ী দেশের রাস্তায় ইভির ব্যবহার কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। ফোর হুইলার ইভি বা গাড়ির বাজার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও থ্রি-হুইলার (ইজি বাইক) এবং ইলেকট্রিক মোটরবাইকের বাজার ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ থেকে ৬০ লাখ ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার এবং ৫০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ই-বাইক চলছে।
এরই মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এবং ইভি জনপ্রিয় করতে ইতিবাচক ট্যাক্স নীতি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে ইভি সংযোজন ও উৎপাদনের জন্যও বিপুল বিনিয়োগ আসছে।
তবে সম্ভাবনা থাকার পরও দেশের ইভি বাজার কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশজুড়ে বাণিজ্যিক ও দ্রুত চার্জিং স্টেশনের নেটওয়ার্ক এখনো অত্যন্ত সীমিত। আবার সনাতন গাড়ির মতো ইভির এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পুনঃ বিক্রয় মূল্য গড়ে ওঠেনি। ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়ে গ্রাহকদের মনে কিছুটা শঙ্কা আছে। সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিক্স ভিত্তিক ইভি ডায়াগনস্টিকসের জন্য দেশের সাধারণ ওয়ার্কশপগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
বাংলাদেশ সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ গণপরিবহনকে বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্য এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকা শহরকে সম্পূর্ণ ইভিবান্ধব করার রূপরেখা রয়েছে। এবার বাজেটে শুল্ক ছাড়ের ফলে এবং স্থানীয়ভাবে ইভি তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ায় আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে অটোমোবাইল বাজারে ইলেকট্রিক গাড়ি একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বর্তমানে দেশে টেসলা, মার্সেডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, আউডি, বিওয়াইডি, ডিপল ও এমজি ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। এসব গাড়ির দাম প্রায় ৪০ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে কয়েক কোটি পর্যন্ত।
জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করতে বাজেটে শুল্ককর রেয়াতি সুবিধা দিয়ে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি উচ্চ করভারের কারণে সাধারণের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের লক্ষ্য করে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
দেশে চীনের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডির গাড়ি সরবরাহ ও উৎপাদনে জড়িত রানার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস পিএলসি। দেশে ইভি গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রানার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এফসিএ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা এখন খুবই ভালো। মাঝারি আকারের একটি এসইউভি ব্যবহারকারীর মাসে জ্বালানি খরচ আগে যেখানে ছিল ৩০ থেকে ৪০ হাজার। সেখানে একটি মাঝারি আকারের বিওয়াইডি সিলিওন ৬ প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল ব্যবহারীর মাসে বৈদ্যুতিক বিলের খরচ আসে মাসে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা।
