ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার আলো

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

দেশের অর্থনীতির ‘হৃৎপিণ্ড’ চট্টগ্রাম। তবে দশকের পর দশক ধরে বাণিজ্যিক রাজধানীর তকমাটি কেবল কাগুজে রূপেই রয়ে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশার আলো। যা বইছে বন্দর থেকে শুরু করে দেশের বৃহৎ পাইকার বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধান এবং চট্টগ্রামের সত্যিকারের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবে নতুন সরকার।

বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবর আলী বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। নতুন সরকারের নেতৃত্বে ঝিমিয়ে পড়া কলকারখানাগুলো আবার পুরোদমে সচল হবে। একই চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ নতুন সরকার নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, ‘চট্টগ্রাম হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড। এ অঞ্চলের সঠিক উন্নয়ন মানে পুরো দেশের উন্নয়ন। নতুন মন্ত্রিসভার নেতৃত্বে আমাদের রুগ্ণ অর্থনীতি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। সচল হবে থমকে থাকা কারখানাগুলো।’

চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বাস্তবায়ন করা ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি। পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজনীতিতে পরিণত করতে সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তর (বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়) এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা। যাতে দাপ্তরিক কাজের বারবার ঢাকা ছুটতে না হয়। ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সব ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও অনুমোদন চট্টগ্রাম থেকেই সম্পন্ন করার ব্যবস্থা। দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হলেও এর সক্ষমতা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। বন্দরের এসব সমস্যা সমাধান করে বন্দর ও কাস্টমসের যাবতীয় কার্যক্রম শতভাগ ডিজিটাল করা। এতে করে পণ্য খালাসে সময় ও ব্যয় কমে আসবে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রামের সংযোগ বাড়িয়ে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এখন অস্তিত্বসংকটে। জলাবদ্ধতা ও অনুন্নত অবকাঠামো এ খাতের প্রধান বাধা। এ এলাকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ লোন সুবিধা এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মিরসরাই এবং কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্পবিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা। এসব গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা মনে করেন নতুন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হতে পারে। কর কাঠামো সংস্কার, চাঁদাবাজি মুক্তবাণিজ্য পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নই পারে চট্টগ্রামের এ সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights