ভয়ংকর রাতের ট্রাক
ইমরান রহমান
সন্ধ্যার পর রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলোতে ট্রাক ও লরির লম্বা সারি দেখা যায়। সবারই অপেক্ষা রাত ১০টা বাজার। সময় হয়ে গেলে দীর্ঘ ক্লান্তি চোখে চালকরা বেপরোয়া গতিতে ছোটেন নিজ নিজ গন্তব্যে। আর রাতের সড়কে এসব ট্রাকের গতির প্রতিযোগিতা ও নিয়ম না মানার প্রবণতা একের পর এক কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। রাত যত গভীর হয় রাজধানীর সড়কগুলোতে দানব হয়ে ওঠে এসব পণ্যবাহী ট্রাক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাতে ট্রাফিক পুলিশের নজরদারির ঘাটতিতে এসব যানবাহন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। অনিরাপদ ওভারটেকিং ও রং রুটে চলার প্রতিযোগিতায় পথচারী থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মতো যানবাহনে থাকা আরোহীদের মৃত্যুরও সংখ্যা বাড়ছে।
সবশেষ গতকাল ভোরে রাজধানীর শ্যামলী মোড়ে ফুটওভার ব্রিজের নিচে রাস্তা পারাপারের সময় বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় দুই নারী নিহত হন। তারা হলেন- মুক্তা (৪০) ও অজ্ঞাত পরিচয়ের একজন (২৫)। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, ভোর পৌনে ৫টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে এক নারীকে মাথার খুলি ভাঙা অবস্থায় মৃতপ্রায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অপর নারী গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে ছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ট্রাকটি শনাক্ত করা যায়নি।
এর আগে গত ৭ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বেপরোয়া ট্রাকচাপায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক সাজু আহমেদ ও তার মেয়ে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ নিহত হন। তারা মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। গত ২০ জুন রাত দুইটার দিকে ডেমরায় রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকের ধাক্কায় এক যুবক নিহত হন। গত ৪ এপ্রিল রাত একটার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাঁচাবাজার এলাকায় উল্টোপথে আসা ট্রাকের ধাক্কায় রিকশাচালক ও রিকশায় থাকা আরোহী নিহত হন। শুধু এই ঘটনাগুলোই নয়- রাতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে শনাক্তই হচ্ছে না ঘাতক ট্রাক। আবার শনাক্ত হওয়ার পর চালক গ্রেপ্তার হলেও অনেক ঘটনার বিচার না হওয়ায় চালকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাত ১০টার পর সড়কে ট্রাফিক পুলিশ তেমন না থাকায় পণ্যবাহী লরি ও ট্রাক খুবই বেপরোয়া গতিতে চলে। এতে পথচারীসহ অন্য যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে বাইপাস সড়কে চলাচল নিশ্চিত করা, প্রতিটি সিগন্যালে এআই ক্যামেরাসহ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, বেপরোয়া গতি দেখলেই আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে ট্রাকে পিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনা কমবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাতে ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনকে নিয়ম মেনে চলতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সচেষ্ট রয়েছে। কোনো গাড়ি নিয়ম ভঙ্গ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
