ভেনেজুয়েলায় পর পর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, বহু হতাহতের শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই কম্পনের জেরে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে (এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)। একইসঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
এছাড়া ভূমিকম্পের পর নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে চালু করা একটি ওয়েবসাইটে ৭ হাজার ৩৮১ জনকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওয়েবসাইটটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এ সংখ্যা নথিভুক্ত করা হয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজরা শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধস, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আফটারশকের আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির কর্তৃপক্ষ নিহত বা আহতের কোনও আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়।
সংস্থাটি বলেছে, ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আর ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ আপডেটে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাস এবং আশপাশের অঞ্চল কেঁপে ওঠার পর ইউএসজিএস সতর্ক করেছে যে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বড় হতে পারে।
এছাড়া ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’-এরও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। মূলত ভূমিকম্পের সময় আলগা মাটির স্তর তরলের মতো আচরণ করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে লিকুইফ্যাকশন বলা হয়। এটি অনেকটা ভূমিধসের মতো ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আফটারশকের আশঙ্কায় হাজার হাজার বাসিন্দা এখনও নিজেদের বাসায় ফিরতে সাহস করছেন না। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিশ্চিত করেছেন যে কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।
এই ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষ এখনও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
