মক্কা প্যাক্ট: যে প্রশ্নগুলো বাংলাদেশের সামনে
রাশেদুল হাসান
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশ। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে এ দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও গভীর। ফলে মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা কিংবা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার প্রশ্নটি কেবল ধর্মীয় সংহতি কিংবা আবেগ দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা এবং নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সার্বভৌম অধিকার।
সম্প্রতি তথাকথিত ‘মক্কা প্যাক্ট’ বা মুসলিম দেশগুলোর সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে সেটি গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত তার নিজস্ব নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সভ্যতাগত পরিচয়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ এক বিষয় আর বাধ্যতামূলক সামরিক জোটে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মক্কা প্যাক্টকে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে দেখানোর যে প্রবণতা রয়েছে তার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট সভ্যতা বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা নয় বরং নিজের ভূখণ্ড, জনগণ ও জাতীয় স্বার্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কোনো দেশের শত্রু বা সংঘাতকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের শত্রু বা সংঘাত হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনই বাংলাদেশের শক্তি
বাংলাদেশের মতো মধ্যম শক্তির রাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে। কিন্তু একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে যোগ দিলে সে কৌশলগত নমনীয়তা সীমিত হয়ে যেতে পারে।
কোনো জোটের সদস্য হওয়ার অর্থ শুধু যৌথ মহড়া বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নয়; ভবিষ্যতের সংঘাতেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে বাংলাদেশ এমন একটি ভূরাজনৈতিক অবস্থানে চলে যেতে পারে, যেখানে নিজের স্বার্থ বিবেচনা করে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ কোনো পরাশক্তি নয় যে একটি সামরিক ব্লকের নেতৃত্ব দিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতির গতিপথ বদলে দেবে। আবার এমনও নয় যে নিরাপত্তার জন্য তাকে কোনো শক্তির ছায়াতলে আশ্রয় নিতে হবে। বরং বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের স্বার্থ আদায় করাই বাংলাদেশের জন্য বেশি কার্যকর কৌশল।
অন্যের শত্রু নিজের শত্রু নয়
সামরিক জোটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি হলো, অন্যের সংঘাত নিজের সংঘাতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা। সৌদি আরব, তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের নিজস্ব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থ রয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু তাদের প্রতিটি কৌশলগত অবস্থান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে অভিন্ন এমনটি ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।
বিশেষ করে সৌদি আরব ও ইরানের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের কোনো সীমান্ত বিরোধ নেই। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বৈরিতাও নেই। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের কোনো সরাসরি স্বার্থ নেই। কিন্তু কোনো সামরিক জোটের অংশ হয়ে গেলে সে সংঘাতের কোনো পর্যায়ে বাংলাদেশকে পক্ষ নেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
একইভাবে পাকিস্তান ও ভারতের দীর্ঘদিনের বৈরিতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন থাকলেও ভূগোলের বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থলসীমান্ত ভারতের সঙ্গে। অর্থনীতি, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নদী ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় ভারতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কোনো সংঘাত হলে সেটিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা হিসাবের অংশ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরো সংবেদনশীল। কোনো সামরিক জোটের কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে তা ঢাকার জন্য কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
ভূগোলকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই
পররাষ্ট্রনীতিতে ভূগোল একটি স্থায়ী বাস্তবতা। সরকার পরিবর্তন হতে পারে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী বদলায় না। তাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে বিবেচনায় রাখা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ যদি এমন কোনো সামরিক জোটে যোগ দেয়, যার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সদস্য ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কে রয়েছে, তাহলে দিল্লির কাছে সেই জোটের অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ বাড়ানো নয়। এটি প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্য সবকিছুর মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অর্থনৈতিক ঝুঁকি
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা গভীরভাবে জড়িত। দেশের জ্বালানি আমদানি, আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংঘাত তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোনো সামরিক জোটের অংশ হিসেবে একটি পক্ষের অবস্থান নিলে তার অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা কোনোভাবেই পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তে উপেক্ষিত হওয়ার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে বাংলাদেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়লে এর নেতিবাচক প্রভাব প্রবাসী শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে পড়তে পারে। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা যেমন প্রয়োজন, তেমনি তাদের আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখাও বাংলাদেশের স্বার্থে জরুরি।
সংবিধানের শান্তির নীতি
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ। সেখানে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন, অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের নীতির কথা বলা হয়েছে।
এ নীতির আলোকে বাংলাদেশের যেকোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একটি প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য হওয়া মানে শুধু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো নয়। এটি জোটের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের সঙ্গেও কোনো না কোনো মাত্রায় সম্পৃক্ত হওয়া।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ভূমিকার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি শান্তিপ্রিয় ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে এমন কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। বাংলাদেশের নিরপেক্ষ ও শান্তিকেন্দ্রিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
জোট নয়, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা
জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সামরিক জোটে যোগ দেওয়া অপরিহার্য নয়। বাংলাদেশ চাইলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো বাড়াতে পারে। তুরস্কের কাছ থেকে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ, সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য ও গোয়েন্দা সহযোগিতা এসব দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যে করা সম্ভব। এর ফলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়বে, কিন্তু বাংলাদেশকে কোনো যৌথ সামরিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে আবদ্ধ হতে হবে না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সামরিক জোট এক বিষয় নয়। বাংলাদেশ যদি জোটে না গিয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে পারে, তাহলে কৌশলগত স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে জোটে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।
সবার আগে দেশের নিরাপত্তা
বাংলাদেশের নিরাপত্তা শুধু সামরিক নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা, বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সীমিত সম্পদের এই দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও জলবায়ু সহনশীলতায় বিনিয়োগের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।
তাই দূরের কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়া কিংবা কোনো সামরিক জোটের বাধ্যবাধকতা পূরণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের আগে জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি। বাংলাদেশের জন্য মানুষের নিরাপত্তাই হওয়া উচিত নিরাপত্তানীতির কেন্দ্রবিন্দু।
সিদ্ধান্তের আগে চিন্তা প্রয়োজন
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জাতীয় স্বার্থের প্রকৃত পরীক্ষা হয় তখনই, যখন ঘনিষ্ঠ কোনো বন্ধু এমন কোনো প্রস্তাব দেয় যা নিজের দেশের স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তখন বন্ধুত্ব অস্বীকার না করেও প্রয়োজন হলে ‘না’ বলার সক্ষমতা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের থাকতে হয়।
বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয় তার ইতিহাস ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুসলিম বিশ্বের সংকটে বাংলাদেশ সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতেও বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় সংহতির অর্থ কোনো সামরিক জোটের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা নয়। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তাই আবেগের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। এ জোট বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাড়াবে, নাকি নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি তৈরি করবে সেটিই হওয়া উচিত মূল প্রশ্ন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত বাংলাদেশ। বন্ধুত্ব থাকবে, সহযোগিতা থাকবে, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কও থাকবে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকবে দেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ। সেটিই হবে প্রকৃত অর্থে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির পরীক্ষা।
