মানতে পারছেন না মোহামেডানের ফুটবলাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফুটবলে ঐতিহ্য হারাতে বসেছিল ঢাকা মোহামেডান। যেখানে তাদের শিরোপা জেতাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল, সেখানে কি না লিগে প্রায় দুই যুগ শিরোপার বাইরে ছিল তারা। ২০০৭ সালে পেশাদার লিগ মাঠে গড়ানোর পর আবাহনী ছয়, বসুন্ধরা কিংস পাঁচ, শেখ জামাল ধানমন্ডি তিন, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র একবার করে শিরোপা জিতলেও সাদা-কালোদের কাছে তা স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে গত মৌসুমে মোহামেডানের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল আলফাজ আহমেদের প্রশিক্ষণে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবার পেশাদার লিগে ট্রফি জিতেছিল ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান। এতে কোটি কোটি সমর্থকের বুক থেকে যেন বড় এক পাথর সরে গিয়েছিল।

শুধু কি তাই, যে মোহামেডান ফেডারেশন কাপে ফাইনাল খেলতে ভুলে গিয়েছিল সেই ট্রফিও উদ্ধার হয়েছিল আলফাজের প্রশিক্ষণে। ২০২২-২৩ মৌসুমে ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ১৪ বছর পর চ্যাম্পিয়নের উৎসবে মেতেছিল মোহামেডান। পরের মৌসুমে লিগ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপে রানার্সআপ। সত্যি বলতে কি, ডুবন্ত মোহামেডানকে ডাঙায় তুলেছিলেন দলের ফুটবলাররা। আর তা সম্ভব হয়েছিল আলফাজের দক্ষ প্রশিক্ষণেই। সেই কোচকে কি না কোনো নোটিসে বরখাস্ত করল মোহামেডান! চলতি লিগে দলের অবস্থা খুবই করুণ। ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে রেলিগেশনের শঙ্কায় আছে তারা।

দল খারাপ করলে কোচ পরিবর্তন করা যেতেই পারে। কিন্তু অপমান করে কেন? রবিবার বিকালে মোহামেডানের ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ করান আলফাজ। সন্ধ্যায় ঘাম ঝরিয়ে যখন ক্লাবে ফিরলেন তখন তাঁর হাতে বরখাস্তের চিঠি তুলে দেওয়া হলো! যা দলের অধিকাংশ ফুটবলারই মানতে পারছেন না। একজন বিদেশি ফুটবলার বলেন, ‘এর চেয়ে অমানবিক আর কী হতে পারে!’ পরিচিত স্থানীয় এক ফুটবলার বলেন, ‘প্রশিক্ষণে পরিশ্রম করে কোচ ক্লাবে ফিরে মুখে পানিও দিতে পারেননি। এরই মধ্যে কোচকে জানানো হলো বরখাস্তের কথা। শুনতাম মোহামেডান ক্লাবের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। এই শিক্ষাটাই কি পেলাম কীভাবে চ্যাম্পিয়ন কোচকে অপমান করে তাড়ানো যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights