মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরিতে অ্যান্ডুরিলের ২৯০ কোটি ডলারের চুক্তি
অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ভার্জিনিয়া-ক্লাস’ পারমাণবিক সাবমেরিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য ২৯০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি পেয়েছে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে ‘আর্সেনাল-২’ নামে নতুন একটি শিপইয়ার্ড নির্মাণে ৩৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার বিকেলে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে এই বড় প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ড সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সম্প্রতি অ্যান্ডুরিলের সহপ্রতিষ্ঠাতা পামার লাকি এবং প্রযুক্তি ধনকুবের ও ট্রাম্পের সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা ইলন মাস্ককে প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি নতুন উদ্যোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ নামের এই উদ্যোগে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামুদ্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ভার্জিনিয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে প্রথমবারের মতো উদ্যোগটির কথা প্রকাশ্যে আসে। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করতে এটি ১২০ দিনের গবেষণার অংশ।
ইরান যুদ্ধ ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল পরিবহন ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাহাজ ও অস্ত্র উৎপাদন দ্রুততর করতে পেন্টাগন যে বিস্তৃত পদক্ষেপ নিয়েছে, অ্যান্ডুরিলের এই চুক্তি তারই অংশ।
প্রায় ১১৭ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের অ্যান্ডুরিল ২০১৭ সালে পামার লাকির হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বায়ত্তশাসিত সামরিক ব্যবস্থা, ড্রোন ও সফটওয়্যার তৈরির জন্য পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোনের পাশাপাশি সমুদ্রগামী চালকহীন যান, নৌ-ড্রোন এবং সামরিক সেন্সর ও অস্ত্র সমন্বয়ের জন্য কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সফটওয়্যার তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।
মেরিল্যান্ডে নির্মাণাধীন নতুন শিল্পকেন্দ্রে মার্কিন নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন করা ‘ভার্জিনিয়া-ক্লাস’ ফাস্ট-অ্যাটাক সাবমেরিনের টর্পেডো টিউব এবং মূল হালের বড় অংশ তৈরি করা হবে। সংস্কারের পর এই শ্রেণির প্রতিটি সাবমেরিন সর্বোচ্চ ৪০টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম হবে। পারমাণবিক শক্তিচালিত হলেও এসব সাবমেরিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ নয়।
অ্যান্ডুরিল জানিয়েছে, নতুন কারখানায় সরাসরি ৩ হাজার ১০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর বাইরে পরোক্ষভাবে আরও ১১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীতে ২৬টি ভার্জিনিয়া-ক্লাস সাবমেরিন চালু রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ বহরে আরও দুটি সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার কথা। তবে পেন্টাগন ও নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং দক্ষ শ্রমিকের সংকটের কারণে দেশটির বিদ্যমান শিপইয়ার্ডগুলো বছরে অন্তত দুটি সাবমেরিন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না। বর্তমানে এই উৎপাদন হার কমে বছরে মাত্র ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ২টিতে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের অ্যান্ডুরিলের প্রেসিডেন্ট ক্রিস ব্রোস বলেন, মেরিল্যান্ডের নতুন শিপইয়ার্ডের প্রধান লক্ষ্য নতুন কোনো ড্রোন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা নয়; বরং ভার্জিনিয়া-ক্লাস সাবমেরিনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তাঁর ভাষায়, প্রতিষ্ঠানটি যে অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করেছে, সেখান থেকে উৎপাদিত পণ্যই মূলত সরকার কিনছে। সূত্র : আল-জাজিরা।
