‘মিনি জাফলংয়ে’ স্বাস্থ্যঝুঁকি

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
বগুড়ার কথিত মিনি জাফলং দিয়ে নামছে বিভিন্ন কারখানার বর্জ্যসহ রাসায়নিক দ্রব্য। এসব রাসায়নিক দ্রব্যের মধ্যেই জলকেলিতে মেতে উঠেছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বগুড়ার কথিত ‘মিনি জাফলংয়ে’ রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র দুই দিনে ভাইরাল হওয়া সেই জাফলংয়ে গোসল করতে নেমে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে এক শিক্ষার্থী। গতকাল সকালে সেখানে আবু সাদাত ইকবাল নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র মারা যায়।

এ ঘটনার পরই স্থানীয় প্রশাসনসহ অতি উৎসাহী ইউটিউবারদের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, শেরপুর উপজেলার বেলগাছী ব্রিজ ঘিরে ‘মিনি জাফলং’ হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হলেও সেখানে লুকিয়ে থাকা মারণফাঁদ সম্পর্কে কেউ সতর্ক করেনি। জানা যায়, ফেসবুকে মাত্র দুই দিনে ভাইরাল হয় বগুড়ার মিনি জাফলং খ্যাত নতুন দর্শনীয় স্থান। এখানে স্থানীয় শিল্প-কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে ফেলায় পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। এই পানিতে পা ভেজালেই ঘা-পাঁচড়াসহ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। বিষয়টি সবার জানা থাকলেও সে বিষয়ে কোনো প্রচার-প্রচারণা বা সতর্ক করা হয়নি। কথিত মিনি জাফলংয়ে জলকেলিতে অংশ নেওয়া বিনোদনপ্রেমীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রাম। ওই গ্রামের মধ্য দিয়ে বহমান বাঙালি নদী। এই নদীর ওপর একটি ব্রিজ রয়েছে। যার নাম বেলগাছী ব্রিজ। এক বছর আগে বাঙালি নদী খনন করা হয়। ব্রিজের নিচে নদীর তলদেশে বালুর স্তর ও ছোট ছোট কুচি পাথর জমে যায়। যাকে স্থানীয়ভাবে মিনি জাফলং বা গরিবের জাফলং নাম দেওয়া হয়। ঈদের এক সপ্তাহ আগে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিজের ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট দেন স্থানীয় দুই যুবক। মুহূর্তেই বিষয়টি ভাইরাল হয়। ঈদের দিন থেকে সেখানে ঢল নামে ভ্রমণ পিপাসুদের। নদীর জলধারায় স্নানোৎসবে মেতে ওঠেন নানা বয়সি মানুষ। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ধুনট উপজেলার বিলচাপড়ি গ্রামের প্রভাষক ইকবাল হোসেন ও শিক্ষিকা সানজিদা পারভিন রিতা দম্পতির ছেলে সাদাত হোসেন নানা বাড়িতে ঘুরতে আসে। ভাইরাল হওয়া মিনি জাফলংয়ে জলকেলি করতে করতে ডুবে যায় শিশুটি। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী লিংকন বলেন, নদীতে রাসায়নিক বর্জ্য ফেলায় বিষাক্ত পানি ব্যবহারে মানুষের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ঘা-পাঁচড়াসহ বিভিন্ন চর্মরোগ। এ ছাড়া পেটের সমস্যাও হতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান জানান, শিক্ষার্থী মৃত্যুর বিষয়টি দুঃখজনক। সেখানে যাওয়া বিনোদন প্রেমীদের সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানোর জন্য স্থানীয় ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights