মেয়াদ শেষ, বাকি ৯০ ভাগ কাজ
মাসুম হেলাল, সুনামগঞ্জ
দিরাইয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের ২০২৫-২৬ মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ জুন। এর আগে প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে অর্ধেক বিল পরিশোধ করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস পার হলেও ৯০ ভাগ প্রকল্পের কাজই শুরু হয়নি।
বরাদ্দের অর্ধেক টাকা চার মাস আগে ছাড় দেওয়া হয়। তবু অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতারাও। তারা বলছেন, সুনামগঞ্জ-২ আসনের এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বার্ধক্যজনিত অসুস্থাতাকে কাজ লায়িয়ে একটি চক্র সরকারি বরাদ্দের টাকা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পকেটস্থ করার পাঁয়তারা করছে। প্রকল্প বাস্তয়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দিরাইয়ে টিআর প্রকল্পের আওতায় তিনটি পর্যায়ে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০টি পকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইউএনওকে সুপারিশপত্র দেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। বেশির ভাগ প্রকল্পই রাস্তায় মাটি ভরাট, মেরামত ও রাস্তা সিসি ঢালাইকরণ।
৮০টি প্রকল্পের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি বাদে বাকিগুলোর কাজ শুরুই করেননি কমিটির লোকজন। অথচ জুনেই বরাদ্দের অর্থেক টাকা কমিটির হাতে তুলে দিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। কতগুলো প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাঈদ কোনো উত্তর দিতে পারেননি। নিজের অফিসে বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব দিয়া দিছেন। এ টাকা দিয়ে আমরা আসবাপত্র ক্রয় করেছি।’
সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব চণ্ডীপুর খেয়াঘাট থেকে খাতুনপুর রাস্তায় মাটি ভরাটকরণ, পূর্বচণ্ডীপুর সরকারি বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা সিসিকরণ, চণ্ডীপুর টিপু মিয়ার বাড়ি থেকে হাফিজ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণ, পূর্বদিরাই ভক্তবাবুর দোকান থেকে পালহাটি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, হারানপুর কামাল মিয়ার বাড়ি থেকে ইমাম বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণ ও মাটি ভরাট এবং দোওজ পাকা রাস্তা থেকে জসিম মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সিসিকরণ প্রকল্পগুলোর দুটিতে নামমাত্র কাজ হয়েছে। বাকিগুলোতে কাজ শুরু হয়নি।
দিরাই পৌর এলাকার রঞ্জিন পাল বলেন, ‘আমাদের গ্রামে যে প্রকল্প দেওয়া হয়ছে এটিই আমরা জানি না।’ উপজেলা বিএনপি সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্যের ভাই মাসুক চৌধুরী বলেন, এমপি অসুস্থ। এ সুযোগে তাঁর পিএস-এপিএস নাম ভাঙিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি করছেন। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তালিকা এনেছি, যাতে কেউ বরাদ্দের টাকা মেরে দিতে না পারে। ইউএনও সনজিব সরকার বলেন, এমপির তালিকার পরিপ্রেক্ষেতি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। অর্ধেক অর্থ ছাড় হয়েছে নীতিমালা মেনে। অনেক প্রকল্প এলাকা পানির নিচে থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি।
