মেসি ম্যাজিকে বুঁদ মিয়ামি

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনার মাঝে লিওনেল মেসি যেন এক রূপকথা লিখে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চলমান এই বিশ্বমঞ্চে আবারো মেসি-জাদুর সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেদের ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের দিনে আর্জেন্টাইন জাদুকরের পায়ের কারুকাজে আবারো মুগ্ধ হয়েছেন সমর্থকরা। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের নকআউটের বৈতরণী পার হয়েছে, আর সেই জয়ের নেপথ্যে থেকে আবারো নিজের নামের পাশে নতুন ইতিহাস যোগ করেছেন মেসি।

ম্যাচের শুরু থেকেই মিয়ামি স্টেডিয়ামের আবহ ছিল অন্যরকম। স্টেডিয়ামের চারপাশ নীল-সাদা জার্সিতে ঢেকে গিয়েছিল অনেক আগে থেকেই। সমর্থকদের কণ্ঠে ছিল প্রিয় দলের জয়গান, হাতে ছিল মেসি ও ম্যারাডোনার ছবি সম্বলিত বিশালাকার ব্যানার। অনেক ভক্তের কাছেই মেসি কেবল একজন ফুটবলার নন, বরং তিনি এক জীবন্ত ঈশ্বর। বয়সের ভার যে তার পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলছে না, বরং তিনি যেন সময়ের সাথে সাথে আরও পরিণত হয়ে উঠছেন, সেটিই বারবার উঠে এসেছে সমর্থকদের কথায়।

কেপ ভার্দের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না। র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও কেপ ভার্দে পুরো সময় জুড়ে আর্জেন্টিনাকে দারুণভাবে চাপে রেখেছিল। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে একজন মেসির প্রয়োজন ছিল, যিনি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তার এই গোলটিই ম্যাচ জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়।
এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোল পূর্ণ করলেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে একটি রেকর্ড।
এবারের আসরে এটি তার সপ্তম গোল। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় এসেও তার এই গোল করার হার বিস্ময়কর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মেসির বড় গুণ হলো তার মাঠ পড়ার ক্ষমতা। তিনি যখন বল পায়ে থাকেন না, তখনো পুরো মাঠ স্ক্যান করেন এবং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন। মাঠের প্রতিটি ইঞ্চি তার নখদর্পণে, আর এ কারণেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তাকে আটকাতে হিমশিম খায়। সাবেক স্কটিশ ফরোয়ার্ড জেমস ম্যাকফ্যাডেন তার এই গোলকে অবিশ্বাস্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মেসির দৌড় এবং বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এখন অন্য উচ্চতায়।

মেসিকে নিয়ে এই উন্মাদনা কেবল মাঠে সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে মিয়ামির প্রতিটি অলিগলিতে। শহরের দেয়ালে দেয়ালে মেসির ম্যুরাল, দোকানপাটে তার ছবি সম্বলিত স্মারক আর রেস্তোরাঁগুলোতে মেসির পছন্দের খাবারের নামে বিশেষ মেনু, সব মিলিয়ে মিয়ামি এখন যেন এক মিনি আর্জেন্টিনায় পরিণত হয়েছে। ম্যাচের পর সাংবাদিকরাও ভিড় জমান প্রিয় তারকার একটিবার ঝলক পাওয়ার জন্য। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ যেন মেসির শ্রেষ্ঠত্বের আরও একটি প্রদর্শনী। তার রেকর্ড ভাঙার নেশা এবং আর্জেন্টিনার জন্য শিরোপা জয়ের এই লড়াই কেবল একটি দলের জয় নয়, বরং ফুটবলের এক মহাকাব্যিক অধ্যায় হয়ে থাকবে ভক্তদের হৃদয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights