মোকামেই চালের বাজার অস্থির

নজরুল মৃধা, রংপুর
ধানের ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ছে রংপুরে। গত এক সপ্তাহে ৫০ কেজির বস্তায় ৭০ থেকে ১২০ এবং কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে চালের দাম। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আমদানি করা চালও দেশে পৌঁছেছে। সে চাল বাজারে বিক্রি না করে গুদামজাত করে রেখেছেন আমদানিকারকরা; যার পরিপ্রেক্ষিতে ভরা মৌসুমে বাড়ছে চালের দাম।

রংপুরের মাহিগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজারের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন আগেও মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা কেজি। বর্তমানে ৬৭ থেকে ৭০ টাকা। কেজিতে বেড়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা। নাজিরশাইল চালের দামও কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ৭৫-৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা ও ব্রি-২৯ জাতের মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে পাইকারি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা; যা খুচরা বাজারে ৫২-৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর চিকন চালের মধ্যে মাঝারিমানের দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। আর ভালোমানের চিকন চাল নাজিরশাইল ও জিরাশাইল প্রতি কেজি ৭০-৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় প্রতি বছর অর্ধলাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত থাকে। এর পরও এ অঞ্চলে চালের দাম কমছে না। এখন আমনের ভরা মৌসুমে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে চালের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হাতেগোনা কিছু অটো রাইস মিল ও মজুতদার সিন্ডিকেট করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ ছাড়া যারা ভারতসহ অন্য দেশ থেকে চাল আমদানি করেছেন তারা এগুলো গুদামজাত করে রেখেছেন। আমদানিকারক ও অটো রাইস মিল সিন্ডিকেটের কারণে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

নগরীর মাহিগঞ্জের চালের আড়তদার ফারুক হোসেন জানান, সম্প্রতি ভারত থেকে আমদানিকারকরা চাল আমদানি করেছেন। সে চাল বাজারে না ছেড়ে গুদামজাত করে রেখেছেন বেশি দাম পাওয়ার আশায়। তিনি বলেন, ছোট ছোট হাসকিং মিলগুলো এখন আর চলে না। বড় অটো রাইস মিল মালিকরা কম দামে ধান কিনে মজুত করে নানা অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া ধনী কৃষক ধান মাড়াই করে মজুত করে রেখে দিয়েছেন। তাঁরা বাজারে ধান বিক্রি করছেন না। ফলে চালের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের ৬ শতাধিক অটো রাইস মিল মালিক ইচ্ছামতো মজুতের মাধ্যমে চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। অটো রাইস মিলগুলো লাখ লাখ মণ ধানের মজুত করে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রংপুর চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, চালের দাম বৃদ্ধির জন্য অটো রাইস মিলগুলো দায়ী। অটো রাইস মিল মালিকরা আগে থেকে ধানের মজুত গড়ে তুলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights