মৌসুম শেষে বার্সা ছাড়তে পারেন ছয় তারকা

অনলাইন ডেস্ক

লা লিগা শিরোপার দৌড়ে এখন শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। শিরোপা প্রায় হাতের মুঠোয় থাকলেও বসে নেই ক্লাবটি। আগামী মৌসুমকে টার্গেট করে আগেভাগেই দল গুছাতে মাঠে নেমেছেন ক্লাবটির নীতিনির্ধারকরা।

বার্সেলোনার মূল লক্ষ্য এখন তাদের ‘আরাধ্য’ ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। ২০১৫ সালের পর ইউরোপের এই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পাওয়া হয়নি কাতালান জায়ান্টদের। চলতি মৌসুমেও কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় সেই অপেক্ষা আরও অন্তত দীর্ঘ হলো।

কোচ হান্সি ফ্লিক তাঁর অভিষেক মৌসুমেই বার্সাকে লা লিগা জিতিয়েছেন এবং এবারও ক্লাবটি সেই পথেই আছে। কিন্তু দুইবার চেষ্টা করেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলকে সাফল্যের চূড়ায় নিতে পারেননি এই জার্মান কোচ। ফলে ইউরোপসেরার ট্রফি জিততে ফ্লিক এখন এমন এক স্কোয়াড গড়তে মরিয়া, যেখানে থাকবে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ‘অস্ত্র’।

তবে এই বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট। হাতে খরচের জন্য অঢেল টাকা নেই ক্যাম্প ন্যূ’এর ক্লাবটির। স্প্যানিশ সংবামা ‘এএস ডায়ারিও’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন খেলোয়াড় কিনতে হলে ক্লাবটিকে তাদের বর্তমান কিছু তারকা খেলোয়াড়কে বিক্রি করে সেই ফান্ড জোগাড় করতে হবে।

সবচেয়ে বড় চমক হলো, যে তিন ডিফেন্ডারকে ক্লাব ছাড়ার তালিকায় রাখা হতে পারে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রোনাল্ড আরাউহো। মাঠ এবং মাঠের বাইরে বার্সার রক্ষণের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত এই উরুগুইয়ান তারকাকেও হয়তো দলের শক্তি বাড়াতে বিসর্জন দিতে পারে বার্সা কর্তৃপক্ষ।

গত নভেম্বরে বিষণ্নতার কারণে খেলা থেকে বিরতি নিয়েছিলেন আরাউহো। ফেরার পর লা লিগায় মাত্র দুটি ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন এই উরুগুইয়ান ডিফেন্ডার। নিয়মিত মাঠে নামতে না পারার এই চিত্রই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্লাব হয়তো তাকে এখন অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় মনে করছে।

আরাউহো ছাড়াও আরও দুই ডিফেন্ডার—জুলস কুন্দে এবং আলেহান্দ্রো বালদের ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও কোচ ফ্লিক তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং তারা দলের নির্ভরযোগ্য মুখ, তবুও আর্থিক সংকটের কারণে চিত্রপট বদলে যেতে পারে। যদি এই পজিশনগুলোতে আরও দক্ষ খেলোয়াড় পাওয়া যায় কিংবা বড় সাইনিংয়ের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, তবে তাদেরও ছেড়ে দিতে পারে বার্সা।

লা মাসিয়ার প্রতিভাবান মিডফিল্ডার মার্ক কাসাদোকেও হয়তো দলবদলের বাজারে তুলতে পারে ক্লাব। গত কয়েক মাসে অনেক ক্লাবই এই মিডফিল্ডারের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। এতদিন বার্সেলোনার হয়ে খেলার তীব্র ইচ্ছার কারণে কাসাদো ক্লাব ছাড়তে রাজি হননি। তবে সৌদি আরব, প্রিমিয়ার লিগ এবং লা লিগার ক্লাবগুলো তাকে পেতে মরিয়া। পর্যাপ্ত গেমটাইম না পাওয়ায় কাসাদো এবার হয়তো ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন।

সবচেয়ে জটিল অবস্থা রুনি বারদঘজিকে নিয়ে। সুইডিশ এই উইঙ্গারকে সহজে হারাতে চায় না বার্সা। তবে আক্রমণভাগের ডানপ্রান্তে লামিন ইয়ামালের বিকল্প হিসেবে খুব একটা মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না বারদঘজি। তাতে এই উইঙ্গারকে বিক্রি করলেও চুক্তিতে ‘বাই-ব্যাক’ (পুনরায় কিনে নেওয়ার সুযোগ) ক্লজ রাখা হতে পারে, যাতে অন্য ক্লাবে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আরও ঝালিয়ে নিতে পারেন তিনি।

বায়ার্ন মিউনিখ থেকে বার্সায় যোগ দেওয়া রবার্ট লেভানডফস্কির ক্লাব ছাড়া অনেকটাই নিশ্চিত। মৌসুম শেষেই পোলিশ ফরোয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। বার্সার হয়ে চার মৌসুমে ১৮৮ ম্যাচে ১৮৮ গোল করেছেন লেভানডফস্কি। জিতেছেন দুটি লা লিগা, একটি কোপা দেল’রে ও তিনটি সুপার কোপা শিরোপা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights