যাত্রাবাড়ীতে এক বাসায় আশ্রয় নিয়ে আন্দোলনে সমন্বয় করতাম

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় যাত্রাবাড়ীর লবণগলির একটি বাসায় আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকেই আন্দোলনের সমন্বয় করতাম। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনে হতো হয়তো আর ফিরে আসতে পারব না। আন্দোলনের পুরো সময় প্রধানমন্ত্রী (বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানের নির্দেশনাই ছিল আমাদের প্রধান দিকনির্দেশনা।’ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি।

ছাত্রদল সভাপতি আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ২০ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে শনিরআখড়ায় কিছু বুঝে ওঠার আগে আমাদের অবস্থান লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। চারদিকে গুলির শব্দ। মানুষের চিৎকার। বাঁচার জন্য ছুটে চলা। একপর্যায়ে লক্ষ্য করি, ডান হাত এবং পা থেকে রক্ত ঝরছে। দ্রুত একটি ফার্মেসিতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। তখন কারা আহত হয়েছেন বা কারা শহীদ হয়েছেন, তা দেখার মতো পরিস্থিতি ছিল না। যাত্রাবাড়ীতে প্রতিদিনই গুলির শব্দ শোনা যেত। কোথা থেকে গুলি আসছে, অনেক সময় সেটিও বোঝা যেত না। পরে জেনেছি, ভবনের ছাদ ও জানালা থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। হেলিকপ্টার উড়লে মানুষ কাঁদানে গ্যাস বা সাউন্ড গ্রেনেডের আশঙ্কায় ভবনের নিচে আশ্রয় নিত। রাকিব বলেন, আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। ২৫ জুন নয়াপল্টনে আমাদের কর্মসূচিতে ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটলে সেদিনই ঘোষণা দিয়েছিলাম, ১ জুলাই থেকে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে রাজপথে থাকবে। পরে সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করি। রাকিব বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম গঠনের পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আন্দোলন শাহবাগকেন্দ্রিক হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে আন্দোলনে সক্রিয় থাকতে হবে। পর্যায়ক্রমে আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ অনেক শিক্ষার্থী নিহত হন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ১৫ জুলাইয়ে বুঝি, আন্দোলন আর কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সারা দেশের ইউনিটগুলোকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাকিব বলেন, জুলাইয়ের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। ৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে একটি বড় মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা সেখানে অংশ নেন। আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি সেই মিছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights