জুলাই সনদের আলোকেই সংবিধান সংশোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর করা জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করবে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি। তার আগে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংসদের আগামী অধিবেশনে এ নিয়ে বিল উত্থাপন করা হতে পারে। ৩০ আগস্ট সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

গতকাল সংসদ সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠকের কার্যক্রম শুরু করেন। বৈঠকে কমিটির কাজের পদ্ধতি এবং কাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, সে বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধন করা হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে। এ ছাড়া সংশোধনীর আলোচনায় রয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়ার দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানে যুক্ত হওয়া। বিপরীতে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসাবে স্বীকৃতি, তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা, প্রতিকৃতি টানানোর বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া। একই সঙ্গে সংবিধানে ফিরতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। আর সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেতে পারে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও জুলাই যোদ্ধাদের অবদান। এ ছাড়া জুলাই সনদকে সামনে রেখে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, একাধিক ডেপুটি স্পিকারের পদ সৃষ্টি, নারীদের আসন বাড়ানোসহ আরও অনেক প্রস্তাবনা সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে ।

বিরোধী দলসহ সমাজের সব পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘জুলাই সনদে কোথাও যদি কোনো রাজনৈতিক দল দ্বিমত পোষণ করে এবং সেই অবস্থান তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে সেটিই প্রাধান্য পাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights