যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছের বাড়িঘর খালি করলো ব্রিটিশ পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটির কাছে বেশ কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই বিমানঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে থাকে।

রবিবার গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের হুইলফোর্ড এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের কাছাকাছি একটি অবসরকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল (ইওডি) মোতায়েন করা হয়েছে। দলটি বেশ কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করছে।

এক বিবৃতিতে গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ বলেছে, “সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল বর্তমানে কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করছে।”

পুলিশ আরও জানায়, বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধ সংঘটনের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সংখ্যা, তাদের পরিচয় কিংবা কী ধরনের বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গেছে- এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত বিমানঘাঁটির কাছেই ঘটনা
হুইলফোর্ডের কাছেই রয়েছে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও মার্কিন বাহিনী এই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে।

ফলে বিমানঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত সন্দেহজনক তৎপরতার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে পুলিশ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে যুক্ত করেছে কি না, কিংবা বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে কোনও হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

এলাকাটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে রাখা হচ্ছে।

কী ঘটেছিল, এখনও স্পষ্ট নয়
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর অর্থ ওই যানবাহনগুলোর ভেতরে সন্দেহজনক কোনও বস্তু বা বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর হুইলফোর্ড এলাকায় সাময়িকভাবে স্বাভাবিক চলাচল ও কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিমানঘাঁটির কার্যক্রমে কোনও প্রভাব পড়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাজ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। বিশেষ করে দূরপাল্লার বোমারু বিমান ও অন্যান্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে ঘাঁটিটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘাঁটিটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে, হুইলফোর্ডে চলমান তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে কোনও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ উদ্ধার হয়েছে কি না- এসব তথ্য তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরিষ্কার হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights