যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত সপ্তম মাসে গড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষের সংঘাত তীব্র হওয়ায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় দিনভর ব্যাপক ওঠানামা করেছে জ্বালানি তেলের দাম।

বুধবার দিনের লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯৮ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৬৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ০১ ডলারে স্থির হয়েছে।

দিনভর লেনদেনে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় তেলের দামই কখনো ২ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে, আবার কখনো ১ ডলার পর্যন্ত কমেছে। দুই বেঞ্চমার্কের দিনের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। প্রায় এক মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর নতুন করে বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বুধবার ইরানের দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। জুলাইয়ের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘর্ষ বলে মনে করা হচ্ছে। এই নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগই তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত ক্রুড অয়েল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘমেয়াদি বাধার মুখে পড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights