যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি স্থিতিশীল

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে সামগ্রিক আমদানি কমলেও বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৫ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। তবে আগস্টে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়েছে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। আমদানির পরিমাণও কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এ সময়ে বাংলাদেশের তুলনায় চীন ও ভারতের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে। দেশ দুটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ ও ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। প্রধান এশীয় সরবরাহকারীদের মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি কমেছে শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।

তবে বাজার ধরে রাখতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের দামের ক্ষেত্রে চাপ নিতে হচ্ছে। জানুয়ারি-আগস্টে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ রপ্তানির পরিমাণের পাশাপাশি মূল্য নিয়েও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। একই সময়ে চীনের ইউনিট মূল্য প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রেও ইউনিট মূল্য কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিক চাহিদা দুর্বল হওয়ার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলক কম কমা ইতিবাচক। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে কম দামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উচ্চমূল্যের ও বেশি মূল্য সংযোজনকারী পোশাক, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পতন তুলনামূলকভাবে কম। আগস্টে প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ইউনিট মূল্য কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights