যুক্তরাষ্ট্রের লাল কার্ড বিতর্কে চরম বিপাকে ফিফা সভাপতি

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দলের (ইউএসএমএনটি) পক্ষে যাওয়া একটি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত এখন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ও নৈতিক ঝড়ে রূপ নিয়েছে। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে মার্কিন তারকা ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখায় নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু নাটকীয়ভাবে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে বালোগানকে খেলার অনুমতি দেয়। এই সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানান যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোকে ফোন করে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘কোনো ফাউল ছিল না’ এবং ‘দুই দুর্দান্ত অ্যাথলেটের সংঘর্ষ’ বলে অভিহিত করেন এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য বিজয়োল্লাস ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ফিফা দাবি করেছে যে সিদ্ধান্তটি তাদের শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছে এবং ইনফান্তিনো এতে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন না। তবে সমালোচকরা এই সাফাই মানতে নারাজ। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার ও ক্রীড়া সংস্থা ‘ফেয়ারস্কয়ার’ জানিয়েছে, তারা ফিফা সভাপতির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবে। সংস্থাটি আরও আশঙ্কা করছে যে ইনফান্তিনো হয়তো আইন বহির্ভূতভাবে এককভাবে এই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারাও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে পুরো ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তারা একে শুধু একটি ম্যাচের জয়-পরাজয়ের সমীকরণ হিসেবে না দেখে, ফুটবলের নৈতিকতা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মৌলিক নীতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ফুটবলের স্বার্থে এবং ফেয়ার প্লে বজায় রাখতে তারা আগামী দিনগুলোতে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।

যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে, তবুও এই বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। কারণ বিষয়টি এখন আর কেবল একজন খেলোয়াড়ের মাঠে নামা বা না নামার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের এক বিপজ্জনক নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইনফান্তিনোর জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, তদন্তে কোনো অপরাধ প্রমাণিত না হলেও, ‘ট্রাম্পের ফোন কলই সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে’ এমন ধারণাই ফিফার বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights