যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে: ইরান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হলে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া পশ্চিম এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। তিনি বলেছেন, আগের যুদ্ধের তুলনায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় অনেক বেশি প্রস্তুত।
সোমবার ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানায়, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ইরান সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। পাশাপাশি শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার হালনাগাদ এবং প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে জানান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আকরামিনিয়া।
তিনি বলেন, অপ্রতিসম ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল, কৌশলগত উদ্ভাবন এবং উপযুক্ত রণকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যবধান অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে ইরান।
ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আকরামিনিয়া বলেন, আগের যুদ্ধের ক্ষেত্র অধিকৃত অঞ্চল থেকে শুরু করে আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে যুদ্ধের পরিধি পশ্চিম এশিয়ার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের নির্দেশনায় ইরান তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদ ও স্থাপনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে বিশ্বের যেকোনো স্থানে থাকা মার্কিন স্থাপনা, সামরিক সরঞ্জাম, বাহিনী ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ইরানের নাগালের মধ্যে থাকলে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
আকরামিনিয়া আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এককভাবে যুদ্ধের সময়সীমা কিংবা এর সমাপ্তির শর্ত নির্ধারণ করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, মার্কিন জনগণ এবং ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্রদের বুঝতে হবে, যেকোনো সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
