রদ্রিকে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সুর বদল

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে দুর্দান্ত পারফর্ম করে স্পেনকে তাদের দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিয়েছেন রদ্রি। কেবল তাই নয়, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বলও উঠেছে তার হাতে।

মাঝমাঠে ফ্যাবিয়ান রুইস, দানি ওলমো এবং পেদ্রির সঙ্গে জুটি বেঁধে পুরো টুর্নামেন্টেই স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের মূল কারিগর ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। আর বিশ্বমঞ্চে এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের পর স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ তাদের পরিকল্পনায় বড় ধরণের রদবদল এনেছে।

চলতি দলবদল মৌসুমের শুরুর দিকে ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যমাঠের মূল চালিকাশক্তি রদ্রিকে দলে ভেড়াতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। তবে বিশ্বকাপ জয়ের পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। স্প্যানিশ ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, পাঁচ কোটি ইউরোরও বেশি অর্থ খরচ করে রদ্রিকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিয়ে আসতে ক্লাবটির শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে মৌখিক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

টানা দুই মৌসুম কোনো মেজর ট্রফি না পাওয়ার যন্ত্রণা সইতে রাজি নন রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লরেন্তিনো পেরেস। বিশেষ করে টনি ক্রুস দল ছাড়ার পর থেকে মাঝমাঠে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মাদ্রিদের খেলায়। ট্রফিহীন সেই অচলাবস্থা কাটাতে এবং ক্লাবকে আবারও পুরোনো ঐতিহ্যে ফেরাতে মৌসুমের শুরুতেই সাবেক কোচ হোসে মরিনহোকে ফিরিয়ে এনেছেন পেরেস। একই সঙ্গে মার্ক কুকুরেয়া, বের্নার্দো সিলভা, ইব্রাহিমা কোনাতে এবং দেনজেল দমফ্রিসকে দলে ভিড়িয়ে শক্তিশালী দল গঠনের বার্তা দিয়েছে ক্লাবটি। এমনকি আরবি লাইপসিগের তরুণ প্রতিভা ইয়ান দিওমান্দেকে দলভুক্ত করতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছ তারা।

বিশ্বকাপে রদ্রির অধিনায়কসুলভ পারফরম্যান্স এবং টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া পেরেসের পুরানো ‘গ্যালাকটিকো’ নীতিকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে। একুশ শতকের শুরু থেকেই বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক বা মেগা তারকাদের দলে ভেড়ানোর এক বিশেষ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদো, ২০০৬ সালে ইতালির ফাবিও কান্নাভারো, ২০১০ সালে মেসুত ওজিল, ২০১৪ সালে হামেস রদ্রিগেস এবং ২০১৮ সালে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা থিবো কুর্তোয়াকে যেভাবে মাদ্রিদে আনা হয়েছিল, রদ্রির ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।

ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে পেপ গুয়ার্দিওলার বিদায় এবং সাবেক স্প্যানিশ সতীর্থদের সঙ্গে নতুন মেয়াদের মরিনহোর দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ রদ্রির সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করতে পারে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতির জন্য মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে রদ্রির বিশ্বমানের নৈপুণ্য এবং দলে একজন বিশ্বসেরা প্লেমেকারের জরুরি প্রয়োজন। ক্লাবটির বিশ্বাস, ব্যলন ডি’অর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপের মতো শিরোপাজয়ী এই তারকাকে মাঝমাঠে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে রিয়াল মাদ্রিদ আবারও তাদের সোনালী দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights