রবীন্দ্রনাথময় বর্ষামুখর সন্ধ্যা

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
নিজের অসামান্য সৃষ্টিকর্ম দিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন কবিগুরু। তার গান, কবিতা, নাটক ও ছোটগল্পে ফুটে ওঠে শ্রেষ্ঠত্ব। বৃহস্পতিবার ছিল কবির ৮৫তম প্রয়াণ দিবস। শ্রাবণের বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় কবি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেছেন বলে কবির বর্ষার গানকে উপজীব্য করে ‘বর্ষামুখর সন্ধ্যা’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক আয়োজনে কবিকে স্মরণ করেছে রবীন্দ্রসংগীতের সংগঠন ভোরের আলোয়।

বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী লিলি ইসলামের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় গতকাল রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ মনোজ্ঞ আসর। কবির বর্ষা পর্বের গান ও নাচ দিয়ে সাজানো ছিল মনোমুগ্ধকর এ সন্ধ্যা।

‘আহ্বান আসিল মহোৎসবের’ গানটির দলীয় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আসরের সূচনা ঘটে। এরপর সমবেত গান ‘আজ তালের বনের করতালি’র সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে সংগঠনের শিল্পীরা। ধারাবাহিক পরিবেশনায় ফারজানা অপরাজিতা গেয়ে শোনায় ‘চক্ষে আমার তৃষ্ণা’, অনুপম কুমার পাল পরিবেশন করেন ‘গগনে গগনে আপনার মনে’, জেসমিন রোজের কণ্ঠে গীত হয় ‘চিত্ত আমার হারাল’, রকিবুল হাসান রঞ্জু গেয়ে শোনায় ‘রিমিকি ঝিমিকি ঝরে ভাদরের ধারা’, মৌমিতা পাল গেয়ে শোনায় ‘শাঙন গগনে ঘোর ঘনঘটা’, সৌরভ শিকদার পরিবেশন করেন ‘আজি শ্রাবণ ঘন গহন মোহে’। দ্বৈত কণ্ঠে প্রমিলা রায় ও সৌরেন্দ্র বাড়ৈ পরিবেশন করেন ‘আমি তখন ছিলেম মগন গহন’ এবং সুচিত্রা কুন্ডু ও রাসেল হোসেন গেয়ে শোনায় ‘কে দিল আবার আঘাত’, শিরোনামের গান দুটি।

সমবেত কণ্ঠে শিল্পীরা ধারাবাহিক পরিবেশন করে আজ নবীন মেঘের সুর লেগেছে, এসো এসো ওগো শ্যামছায়া ঘন দিনসহ আটটি গান। এরপর দুটি গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যশিল্পীরা। আয়োজক সংগঠন ‘ভোরের আলোয়’ এর শিল্পীদের সঙ্গে নাচ ও গানের মনোজ্ঞ এ আসরে অংশ নেয় ছোটদের গানের দল গানে গানে আড্ডা, উত্তরায়ণ ও নৃত্যাঞ্চল। গ্রন্থনা ও পাঠে ছিলেন অনন্যা সাহা এবং হাফিজুর রহমান। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন শিবলী মোহাম্মদ ও স্নাতা শাহরীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights