রাতেই আকাশে দেখা যাবে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি

অনলাইন ডেস্ক

প্রতি বছর রাতের আকাশে মহাজাগতিক এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, যা ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি নামে পরিচিত। পৃথিবী থেকে কোটি কোটি মাইল দূরে থাকলেও ইতিহাসের বিখ্যাত ধূমকেতু হ্যালি’স কমেটের যেসব ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে ছড়িয়ে রয়েছে, তার প্রভাবেই এই ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত এই উল্কাবৃষ্টি তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ২০টি ‘উল্কা’ বা ‘খসে পড়া তারা’ দেখা যেতে পারে। তবে চলতি বছর চাঁদের উজ্জ্বলতা মহাজাগতিক এই দৃশ্য দেখার পথে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। যদিও চাঁদ ডুবে যাওয়ার পর এবং বৃহস্পতিবার ভোর হওয়ার আগে আকাশ কিছুটা অন্ধকার থাকবে, এই সময়ে উল্কাবৃষ্টি ভালোভাবে দেখা সম্ভব হবে।

সাধারণত ২ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি সক্রিয় থাকে। এর মধ্যে ২১ ও ২২ অক্টোবর এটি সবচেয়ে তীব্র হয়। প্রতিটি ওরিওনিড উল্কা আসলে হ্যালি’স কমেটের একটি ক্ষুদ্র অংশ। হ্যালি’স কমেট যখনই সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের মধ্যদিয়ে ভ্রমণ করে- প্রায় প্রতি ৭৫ বছর পরপর যেটি ঘটে, তখনই এটি প্রচুর ধূলিকণা ছড়িয়ে দেয়। প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসে যখন ‘এটা অ্যাকুয়ারিয়িড’ উল্কাবৃষ্টি হয় এবং অক্টোবর মাসে যখন ‘ওরিওনিড’ উল্কাবৃষ্টি হয়- পৃথিবী এই ধূলিকণার প্রবাহের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এই সময়ে এই কণাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে আকাশে ক্ষণস্থায়ী আলোর রেখা তৈরি করে। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালি’স কমেট সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে এসেছিল এবং ২০৬১ সালে এটি পুনরায় ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ থেকেও ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ রয়েছে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁদ ও নক্ষত্রপুঞ্জগুলো যখন রাতের আকাশে ক্রমশ উপরে উঠতে থাকে তখন পূর্ব আকাশের দিকে এই উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। এ সময় ‘প্লিয়াইডিস’ (অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সুপরিচিত উন্মুক্ত তারা) নক্ষত্রগুচ্ছটিকে ৬ থেকে ৭টি তারার একটি অস্পষ্ট গুচ্ছের মতো দেখা যায়। খালি চোখেই এগুলো দেখা সম্ভব, তবে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে এগুলোর আরও চমৎকার ও বিস্তর রূপ চোখে ধরা পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights