লাভজনক হওয়ায় মানিকগঞ্জে বাড়ছে আখের আবাদ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

ভালো দাম, স্থায়ী চাহিদা এবং সাথি ফসল থেকে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ থাকায় মানিকগঞ্জে আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রতি বছরই জেলায় আখের আবাদ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আখের চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মানিকগঞ্জে ৫২৪ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। জেলার সিংগাইর, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়। আখের পাশাপাশি কৃষকেরা সাথি ফসল হিসেবে লালশাক, ধনেপাতা, মূলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। এতে একই জমি থেকে অতিরিক্ত আয় হচ্ছে।

সদর উপজেলার দীঘী ইউনিয়নের রমনপুর এলাকার কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, আমার বেশি জমি নেই। যে পরিমাণ জমি আছে, সবটিতেই আখের চাষ করছি। আখ লাগানোর আগে একই জমিতে মূলা, লালশাক ও ধনেপাতার আবাদ করেছিলাম। সেসব ফসল ভালো দামে বিক্রি হয়েছে। এবার আখ চাষে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করেছেন।

আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে আখ চাষে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করা সম্ভব।

মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার কাচারি বাজারের খুচরা বিক্রেতা ইন্নিছ আলী বলেন, তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি আখ ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করেন। তবে এখনো বাজারে পর্যাপ্ত আখ ওঠেনি। কয়েক দিনের মধ্যেই মৌসুম পুরোদমে শুরু হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজাহান সিরাজ বলেন, লাভজনক হওয়ায় মানিকগঞ্জে দিন দিন আখের আবাদ বাড়ছে। একই সঙ্গে কৃষকেরা সাথি ফসল হিসেবে মূলা, ধনেপাতা, লালশাকসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করে অতিরিক্ত আয় করছেন। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জের আখ রসাল ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে জেলার আখ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights