শক্তির পার্থক্য বুঝলেন হামজারা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হলো আরও তিনজন প্রবাসী ফুটবলারের। গতকাল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার গেলোরা বাঙ কর্নো স্টেডিয়ামে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অভিষিক্ত হয়েছেন তারা। প্রথম একাদশে ছিলেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। এরপর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফ। তবে অভিষেকটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারলেন না তারা। ফিফা আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে গেছেন হামজা চৌধুরীরা। গতকাল প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যে দলে আরও খেলেছেন সামিত, তারিক কাজী, জায়ান আহমেদও।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য ভালোই বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১ নম্বরে আছে বাংলাদেশ। ১৩৬ নম্বরে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জোরালো কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি থমাস ডুলির শিষ্যরা।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে মালয়েশিয়াকে লিড এনে দেন আয়মান। ডান দিকে ডি বক্সের ভিতর থেকে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ান মালয়েশিয়ার এই ফরোয়ার্ড। ৩৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়মান। ডি বক্সের সামনে শাকিল আহাদ তপু বল ক্লিয়ার না করে পায়ে রাখার চেষ্টা করলে বল পেয়ে যান আয়মান। এরপর সহজেই বাংলাদেশের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। বিরতির পর ব্যবধান কমানোর বিপরীতে দ্রুত গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৫৩ মিনিটে দারুণ এক ফিনিশিং করেন বার্গসন। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে শরীরকে দ্রুত ঘুরিয়ে শট নেন মালয়েশিয়ার জার্সিতে গতকাল অভিষেক হওয়া ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত এই স্ট্রাইকার। প্রতিহত করতে গোলরক্ষক শ্রাবণ বলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মালয়েশিয়া। প্রথমার্র্ধের শেষদিকে গোলরক্ষক শ্রাবণ গোলবারের সামনে দাঁড়িয়ে দারুণ একটি আক্রমণ প্রতিহত করেন। ম্যাচের শেষদিকেও গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশও কয়েকবার সুযোগ পেয়েছিল গোল করার। তবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন হামজা। শাহরিয়ার ইমনের পাস থেকে ডি বক্সে সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও তার শরীর বরাবর শট নেন। ফিরতি সুযোগেও হামজাকে গোল করতে দেননি মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক হাজিক। কর্নারের বিনিময়ে মালয়েশিয়াকে বাঁচিয়ে দেন তিনি। ৮২ মিনিটে ইমনও সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু গোলরক্ষক বরাবর ধীরগতির শট কোনো কাজে আসেনি। সবমিলিয়ে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অষ্টম হার দেখল বাংলাদেশ। ১১ বারের দেখায় একবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্য দুটি ড্র হয়েছে। এই ম্যাচের পর বাংলাদেশের হেড কোচ থমাস ডুলি বলেছেন, ‘আমাদের যে স্বপ্ন ছিল এই ম্যাচে তা পূরণ হয়নি। তবে আমরা দুই দলের পার্থক্য দেখেছি। শক্তিমত্তায় অনেক পার্থক্য রয়েছে। টেকটিকস ও টেকনিক্যালিও প্রতিপক্ষ অনেক এগিয়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তারা ভালো খেলেছে। নিজেদের সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে আমরা এমন এক দলের বিপক্ষে খেলেছি যারা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে।’ পাশাপাশি তিনি হামজা, সুকি ও ফারহানেরও প্রসংশা করেছেন। হামজাকে নিয়ে তার মন্তব্য, হামজা অফেন্সিভ ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড দুই পজিশনেই দুর্দান্ত খেলেছেন। এমনকি ফরোয়ার্ড লাইনেও বেশ কার্যকর হামজা চৌধুরী। দিনের অপর ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ২-০ গোলে হারিয়েছে সিঙ্গাপুরকে।
