শহীদদের ত্যাগে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। এই ত্যাগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসতে সক্ষম হয়েছে।

বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সহকর্মী, ভাই-বোনেরা সংগ্রাম করেছেন।

আজকে আমরা যে সরকার গঠন করতে পেরেছি, তা তাদেরই মহান ত্যাগের ফসল।

নিজের রাজনৈতিক কর্মপন্থা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমি নীরব ও নিভৃতে নান্দাইলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ফ্যাসিবাদের কঠিন সময়ে যখন কেউ নান্দাইলে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস পায়নি, তখন আমি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ১৭ বছরের যুদ্ধে অনেকে কারাবরণ করেছেন, অনেকে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং অনেকে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সংগ্রামের বীজ রোপণ করেছিলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার ঐতিহাসিক ফলাফল অর্জিত হয়েছে। আজ সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলো।

সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

তালিকাভুক্ত জুলাই শহীদ পরিবারকে আগামী ২ মাসের মধ্যে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নলকূপ (টিউবওয়েল) স্থাপন করা হবে বলেও জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।

এছাড়া, নান্দাইলের শহীদ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নান্দাইলের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের প্রতিনিয়ত খোঁজ রাখা হচ্ছে এবং এগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন শহীদ জুবায়ের ইসলামের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী, শহীদ হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, জুলাইযোদ্ধা শেখ সাদী, জুলাইযোদ্ধা রানা হোসেন, ছাত্রদল নেতা পিয়াস হোসেন, যুবদল নেতা হাকীকুজ্জামান নওফেল এবং জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম শাহীন।

এছাড়া, অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, নান্দাইল উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কে এম আবদুল্লাহ আল মামুন এবং নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এনামুল কাদের।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যগণ, সংবর্ধিত জুলাইযোদ্ধাবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক, সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে, সকালে প্রতিমন্ত্রী নান্দাইল পৌঁছে শহীদ মিনার চত্বরে জুলাই শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর উপজেলা পরিষদের সামনে জুলাই-এর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য গ্রাফিতিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

বিকেলে অডিটরিয়ামের সামনে উন্মুক্ত স্থানে ছবিতে জুলাই শিরোনামে ফটো প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় জুলাই নিয়ে বিশেষ বই মেলারও উদ্বোধন করেন তিনি।

এরপর একই স্থানে স্মৃতির ক্যানভাস-এ নিজের অভিজ্ঞতা লিখে স্বাক্ষর করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে অন্যরাও ক্যানভাসে জুলাই নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা লেখেন।

পরে তিনি উপজেলা পরিষদে স্থাপিত ‘জুলাই কর্নার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights