শাবিপ্রবির অধিভুক্ত কলেজে ৫০ শতাংশই ফেল, জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধিভুক্ত ‘শাহজালাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে’ হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৫০ শতাংশ। বাকি ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ফলাফল অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৩১৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত হলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৩১২ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন ১৫৬ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ঠিক সমসংখ্যক অর্থাৎ ১৫৬ জন শিক্ষার্থী। লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ৩১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮১ জন ছাত্র এবং ১৩১ জন ছাত্রী ছিলেন। সফলভাবে পাস করা ১৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৫ জন ছাত্র ও ৬১ জন ছাত্রী রয়েছেন। কলেজটিতে জিপিএ-৫ অর্জনের দিক থেকেও ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। মাত্র একজন ছাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবিক বিভাগে ১০৫ জন পাস করলেও ১১৪ জন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে ৫১ জন পাস এবং ৪৪ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

পাস করা ১৫৬ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিপিএ ৫.০০ পেয়েছেন ১ জন (০.৬%), জিপিএ ৪ এর ঘরে রয়েছেন ৩ জন (১.৯%), জিপিএ ৩ এর ঘরে ৭৪ জন (৪৭.৪%), জিপিএ ২ এর ঘরে ৭৬ জন (৪৮.৭%) এবং জিপিএ ১ এর ঘরে রয়েছেন ২ জন শিক্ষার্থী (১.৩%)।

ফলাফলের তুলনামূলক চিত্রে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী বছরগুলোর (২০২৪ ও ২০২৫) তুলনায় চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি অকৃতকার্য বা ফেলের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। শতভাগ পাসের লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে থেকে কলেজের অর্ধেক শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় ফেল করায় অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহজালাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল দিগ্বিজয় চক্রবর্তী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় বেশি। তাদের একটা বড় অংশ গতবছরও অকৃতকার্য হয়েছিল। তবে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই পাশ করেছেন।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের জন্য আমরা স্পেশাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিলাম কিন্তু অধিকাংশই অংশগ্রহণ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights