সংঘাতের মধ্যেও সৌদি আরবের তেল রপ্তানির পালে হাওয়া

অনলাইন ডেস্ক

ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেও চলতি মাসে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আল আরাবিয়া ডট নেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের তুলনায় এই রপ্তানি ৮০ শতাংশ বেড়েছে। যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

বাণিজ্য ও জ্বালানি প্রবাহের তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ এর তথ্যা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ (৬ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। এর ফলে দেশটির অপরিশোধিত তেলের চালান বা শিপমেন্টের পরিমাণ আবার সেই পর্যায়ে ফিরে এসেছে, যা ২০২৫ সালে রেকর্ড করা মাসিক গড়ের কাছাকাছি।

চলতি মাসে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি আরব তাদের ‘পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ রাখা সত্ত্বেও রপ্তানির এই বৃদ্ধি ঘটেছে। ওমান উপকূল বরাবর মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি নৌ-চলাচল পথ খুলে দেওয়ার পর, সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির একটি অংশ হরমুজ প্রণালি মধ্য দিয়ে সরিয়ে নেয়।

কেপলারের তথ্যমতে, গত বুধবার পর্যন্ত সাত দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গড়ে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ (১৩.২ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের কারণে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ার আগে এই পরিমাণ ছিল দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ (১৭ মিলিয়ন) ব্যারেল।

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও গ্রাহকদের কাছে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তেল সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মক্ষমতা ও লজিস্টিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলে গত সপ্তাহে নিশ্চিত করেছেন সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিন নাসের।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরামকো অতিরিক্ত রপ্তানি পথ অনুসন্ধান এবং রাজ্যের (সৌদি আরবের) বাইরে তাদের সংরক্ষণ সক্ষমতা (স্টোরেজ ক্যাপাসিটি) বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রেখেছে। ‘নিকেই এশিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসের আরও বলেন, ‘পূর্ব-পশ্চিম’ পাইপলাইন প্রকল্পটি কেবল একটি একক লাইন নয়, বরং এটি একটি বহু-পর্যায়ের ব্যবস্থা যা অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনে উল্লেখযোগ্য নমনীয়তা প্রদান করে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, উন্নত অবকাঠামো এবং পরিচালনগত দক্ষতার কারণে কোম্পানিটি যেকোনো বড় ধরনের বিঘ্ন বা সংকট মোকাবিলা ও সামাল দিতে সক্ষম। তিনি বলেন, আরামকো বিদেশে তাদের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগগুলোও খতিয়ে দেখছে। এর ফলে বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রাখার সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

সূত্র: সৌদি গেজেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights