সম্পদ ও সৌন্দর্যের মোহে ইসলামের সংযমনীতি

মুফতি সাইফুল ইসলাম

মানুষের অন্তরে অশান্তির অন্যতম বড় কারণ হলো নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা। অন্যের প্রাচুর্য, সৌন্দর্য, শক্তি বা সামাজিক অবস্থান দেখলে নিজের প্রাপ্তিকে তুচ্ছ মনে হওয়া। এই মনোভাব ধীরে ধীরে ব্যক্তির কৃতজ্ঞতাবোধকে গ্রাস করে তার মধ্যে জন্ম দেয় হিংসা, হতাশা ও অসন্তোষের মতো মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি। অথচ ইসলাম মানুষের হৃদয়কে প্রশান্ত রাখার জন্য এমন সব নীতিমালা দিয়েছে, যা মানুষের দৃষ্টি ও চিন্তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

এই প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ নির্দেশনা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا نَظَرَ أَحَدُكُمْ إِلَى مَنْ فُضِّلَ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ وَالْخَلْقِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ

আবূ হুরাইরাহ (রা) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কারো নজর যদি এমন লোকের উপর পড়ে, যাকে মাল-ধন ও দৈহিক গঠনে অধিক মর্যাদা দেয়া হয়েছে তবে সে যেন এমন লোকের দিকে নজর দেয়, যে তার চেয়ে নিম্ন স্তরে রয়েছে। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৯০)

এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মানসিক ভারসাম্য রক্ষার এক অনুপম দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। দুনিয়ার বিষয়গুলোতে সব সময় উঁচু দিকে তাকিয়ে থাকলে মানুষের অন্তরে অসন্তোষ জন্ম নেয়, কারণ দুনিয়াতে সব সময়ই এমন কেউ থাকবে, যে সম্পদ, সৌন্দর্য বা ক্ষমতায় আমাদের চেয়ে বেশি প্রাপ্তির অধিকারী। ফলে সেদিকের তুলনা মানুষকে কৃতজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত করে এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে করায়।

তাইতো এই হাদিসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শেখাচ্ছেন;যখন দুনিয়াবি বিষয়ে নিজের চেয়ে এগিয়ে থাকা কাউকে দেখি, তখন যেন নিজের চেয়ে কম প্রাপ্ত মানুষের কথা স্মরণ করি। এতে হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা জন্ম নেয়, আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি আসে এবং হিংসা ও দীর্ঘশ্বাসের আগুন নিভে যায়। এটি আত্মিক প্রশান্তির এক বাস্তবমুখী চিকিৎসা।

এই নির্দেশনা দুনিয়ার বিষয়ে প্রযোজ্য; কিন্তু দ্বীনের ক্ষেত্রে উল্টো নীতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। সেখানে আমাদের উচিত নিজের চেয়ে অগ্রসর মানুষদের দিকে তাকিয়ে উৎসাহ নেওয়া। এভাবেই ইসলাম মানুষকে দুনিয়ায় সংযত, কৃতজ্ঞ ও প্রশান্ত এবং আখিরাতে উন্নতির পথে পরিচালিত করে।

সংক্ষেপে বলা যায়, এই হাদিস মানুষকে শেখায়; দৃষ্টি যদি সঠিক হয়, তবে হৃদয়ও সঠিক থাকে; আর হৃদয় সঠিক থাকলে জীবন হয়ে ওঠে শান্ত ও আল্লাহমুখী।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। দুনিয়ার জিন্দিগিতে স্ব স্ব অবস্থানের শুকরিয়া আদায় করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার তাওফিক দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights